মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা, খামেনি নিহত, আঞ্চলিক সংঘাত
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের দামামা বেজেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে। এই হামলার ধাক্কায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে গোটা অঞ্চলজুড়ে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, পুরো বিশ্ব রাজনীতিতেই পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দো-ইসরায়েল অক্ষের এই আগ্রাসনের মূল লক্ষ্য ইরানে রাজনৈতিক অবকাঠামো ধ্বংস করা। ইসরায়েল যদি এই রেজিম পরিবর্তনে সফল হয়, তবে তাদের সীমান্ত সরাসরি পাকিস্তানের তাফতান পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। এই পরিস্থিতি পাকিস্তানের ভৌগোলিক নিরাপত্তা, বিশেষ করে বেলুচিস্তান ও দেশটির পারমাণবিক সম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। ফলে পাকিস্তানকে এখন নতুন করে কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ ঐক্য, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এখন সময়ের দাবি।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্য এখন আর নিরাপদ নয়। যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সাইপ্রাস পর্যন্ত। ইউরোপীয় শক্তিগুলোও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই আগ্রাসনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ইরানের নিহত নেতা আগেই পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যে, ইরানে হামলা হলে তা একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হবে এবং আগ্রাসীদের জন্য তা অজেয় হয়ে উঠবে। বর্তমান পরিস্থিতি তারই প্রমাণ বহন করছে।

