ট্রাম্পের আত্মসমর্পণের ডাক উপেক্ষা করে পাল্টা হামলা আইআরজিসির
শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির সদস্যদের অস্ত্র সমর্পণের নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, যারা আত্মসমর্পণ করবে তারা নিরাপদ থাকবে, তবে যারা তা করবে না তাদের নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে। কিন্তু এই হুঁশিয়ারির পরও ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আত্মসমর্পণ বা বিচ্ছিন্নতার আভাস দেখা যায়নি। উল্টো আইআরজিসি এবং বাসিজ বাহিনী ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই কৌশল ভেস্তে যাওয়ার পেছনে ইরানের এই বাহিনীর আদর্শিক কাঠামো এবং সংগঠনগত শক্তি প্রধান ভূমিকা রেখেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত আইআরজিসি কোনো সাধারণ সামরিক বাহিনী নয়, এটি সরাসরি দেশটির সর্বোচ্চ নেতার কাছে জবাবদিহি করে। প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার সক্রিয় সদস্য ও ৬ লাখ রিজার্ভ সদস্য নিয়ে গঠিত এই বাহিনীর রয়েছে নিজস্ব স্থল, নৌ ও বিমান শাখা। এছাড়াও তারা ইরানের অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী খাত যেমন- জ্বালানি, অবকাঠামো এবং টেলিযোগাযোগ খাত নিয়ন্ত্রণ করে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই বাহিনীকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করলেও তাদের রাজনৈতিক প্রভাব অটুট রয়েছে।
আইআরজিসির অধীনে থাকা বাসিজ বাহিনী মূলত স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে গঠিত একটি আধাসামরিক বাহিনী, যার সদস্য সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ। ধর্মীয় বিশ্বাস ও দেশপ্রেমের পাশাপাশি সামাজিক সুবিধার কারণেও অনেকে এই বাহিনীতে যোগ দেন। ট্রাম্প আশা করেছিলেন হুমকি দিলে হয়তো তারা ভেঙে পড়বে, কিন্তু ‘ভেলায়াতে ফকিহ’ বা ধর্মীয় নেতার প্রতি অটুট আনুগত্যের কারণে এই বাহিনী একত্রিত রয়েছে। সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা মনে করেন, ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্র যেহেতু একাধিক এবং আদর্শগতভাবে শক্তিশালী, তাই বাইরের কোনো চাপ বা আহ্বান এই বাহিনীকে দমাতে পারেনি।

