মামলা তুলে নিতে চাপ ও চাঁদা না দেওয়ায় কৃষককে মারধরের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি

মো. আকাশ মাহমুদ, পাংশা (রাজবাড়ী)
২১ এপ্রিল ২০২৬ ১:৫৯ পিএম
মামলা তুলে নিতে চাপ ও চাঁদা না দেওয়ায় কৃষককে মারধরের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় মামলা তুলে নিতে চাপ এবং চাঁদা দাবির জেরে আব্দুল খালেক সরদার (৫২) নামে এক কৃষককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহত কৃষক আব্দুল খালেক সরদার বর্তমানে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি পাংশা পৌরসভার মৌকুড়ী গ্রামের মৃত ওয়াজেদ সরদারের ছেলে।

জানা যায়, প্রায় ২–৩ বছর আগে ভুক্তভোগী খালেক সরদারের স্ত্রীর ওপর হামলার ঘটনায় তিনি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলাটি তুলে নিতে দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুল খালেক সরদার জানান, স্ত্রীর ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করার পর থেকেই তাকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। মামলা না তুললে ‘খরচ বাবদ’ ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে একই এলাকার আক্কাস আলী আগুন, শমসের খান, সোহান খান ও নিলুসহ অজ্ঞাতনামা ৮–১০ জনের একটি দল লোহার রড ও কাঠের বাটাম দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে।

তিনি আরও বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় কোনোমতে বাড়িতে ফিরলে অভিযুক্তরা তার বাড়িতেও হামলার প্রস্তুতি নেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তারা এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আক্কাস আলী আগুন মুঠোফোনে বলেন, মারধরের ঘটনা তিনি শুনেছেন, তবে এর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, ঘটনা জানার পর রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...