নিজেদের মিসাইলেই ধ্বংস হলো তিনটি মার্কিন এফ-১৫, সত্যতা স্বীকার ওয়াশিংটনের

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের তৃতীয় দিনে কুয়েতের আকাশে অদ্ভুত এক ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১ মার্চ) সেখানে তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৫ স্ট্রাইক ইগল বিধ্বস্ত হয়। শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে এগুলো ভূপাতিত হয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সোমবার (২ মার্চ) নিশ্চিত করেছে যে, কুয়েতের নিজস্ব বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুল চিহ্নিতকরণের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
ওই তিনটি বিমানে থাকা ছয় ক্রু সদস্যই নিরাপদে বেরিয়ে এসেছেন এবং তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, কুয়েত এই ভুলের দায় স্বীকার করে নিয়েছে। ক্রুদের দ্রুত উদ্ধারে কুয়েতি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহায়তার জন্য ওয়াশিংটন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। তবে কীভাবে মিত্রবাহিনীর এত উন্নত যুদ্ধবিমানগুলো শত্রু বলে ভুল হয়ে গেল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অবশ্য এই ঘটনার দায় নিজেদের কাঁধে নিতে রাজি ছিল না ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছিল, কুয়েতে বিধ্বস্ত মার্কিন বিমানগুলোর ওপর তারাই হামলা চালিয়েছে। কিন্তু ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, এফ-১৫ স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানটি এখন পর্যন্ত শত্রুপক্ষের কোনো আঘাতে ধ্বংস হতে দেখা যায়নি। আকাশযুদ্ধে এর পাল্লা ১০৪টি শত্রুবিমান ধ্বংসের রেকর্ড রয়েছে, কিন্তু নিজে কখনো ভূপাতিত হয়নি। শব্দের চেয়ে ২.৫ গুণ বেগে উড়তে সক্ষম এই জঙ্গিজাহাজটি প্রায় ৬৫ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থান করতে পারে।
প্রশ্ন উঠেছে, কুয়েতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কি মার্কিন এফ-১৫ ধ্বংস করতে সক্ষম? সামরিক বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, কুয়েতের অস্ত্রাগারে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি শক্তিশালী ‘প্যাট্রিয়ট’ মিসাইল ব্যবস্থা রয়েছে, যা ইরানের হামলা প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও ইতালির স্পাডা ২০০০ এবং নরওয়ের তৈরি নাসামস রকেট ব্যবস্থা তাদের হাতিয়ারে আছে। ধারণা করা হচ্ছে, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি থেকে নিক্ষিপ্ত প্যাট্রিয়ট মিসাইলই ভুলবশত ওই এফ-১৫ বিমানগুলোকে লক্ষ্য করেছিল।

