চীনে নববর্ষের আমেজেই শুরু রমজান, তৈরি হচ্ছে সম্প্রীতির মেলবন্ধন
পূর্ব এশিয়ার দেশ চীনে এবার দুটি বিরল ঘটনা একই সঙ্গে ঘটেছে। ২০২৬ সালে দেশটিতে ইসলাম ধর্মালম্বীদের পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে ঠিক তাদের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক উৎসব ‘চান্দ্র নববর্ষ’ বা ‘বসন্ত উৎসব’-এর আমেজের মধ্যেই। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি চীনে চন্দ্র নববর্ষ উদযাপন শুরু হলেও মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে মিল রেখে চীনা মুসলিমরাও ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান মাস পালন শুরু করেছেন।
চীনা জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুযায়ী, শীতকালীন অয়নের পর দ্বিতীয় নতুন চাঁদ দেখা যাওয়ার মাধ্যমে এই নববর্ষ শুরু হয়। সাধারণত জানুয়ারির শেষ থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি এই উৎসব পড়ে। ক্যালেন্ডারের এই বিশেষ সমীকরণের ফলে এবার দুটি উৎসবের সময় একই সপ্তাহে মিলেছে। দক্ষিণ চীনের শেনজেন শহরের একটি মসজিদের ইমাম হাজি ইসহাক ঝং জানিয়েছেন, চীনা নববর্ষে পারিবারিক সম্মিলন ও সদাচরণ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, রোজায় ত্যাগ ও সহমর্মিতার শিক্ষাও সমাজকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে।
চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে রমজানের নামকরণ ও পালনরীতিতে বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। মান্দারিন ভাষায় একে একসময় ‘ফেং জাই’ বা রোজা সম্পন্ন করার মাস বলা হতো। আবার জিনজিয়াংসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তুর্কিভাষীরা একে ‘রো জি’ বলে থাকেন। চীনে প্রায় ১০টি মুসলিম জাতিগোষ্ঠীর বসবাস, যাদের মধ্যে ‘হুই’ এবং ‘উইঘুর’রা অন্যতম। এই বিরল সময়ে দেশটিতে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক সংহতি আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

