কেয়ামতের দিন মানুষের সামনে যা দৃশ্যমান হবে ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায়
হাশরের ময়দানে প্রতিটি মানুষ একাকীভাবে তার স্রষ্টার সামনে দাঁড়াবে, যেখানে কোনো মধ্যস্থতাকারী থাকবে না। আদি ইবন হাতিম (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (স.) বলেছেন, সেদিন মানুষ যখন ডানে তাকাবে তখন সে তার আগে করে পাঠানো আমল ছাড়া কিছুই দেখতে পাবে না। একইভাবে বামে তাকালেও সে শুধু নিজের কৃতকর্মই প্রত্যক্ষ করবে। এরপর সে সামনের দিকে দৃষ্টি দিলে সেখানে ভয়াবহ জাহান্নামকে দেখতে পাবে।
এই ভয়ানক মুহূর্ত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে বিশ্বনবী (স.) সাহাবীদের একটি সহজ কিন্তু মূল্যবান আমল শিখিয়েছেন। একবার সকালে রাসুল (স.) উম্মুল মুমিনিন জুয়াইরিয়া (রা.)-এর ঘর থেকে বের হন এবং ফিরে এসে দেখেন তিনি এখনও জিকিরে মশগুল। তখন তিনি বলেন, তিনি তার অনুপস্থিতির সময় চারটি বাক্য তিনবার পড়েছেন, যা ওই সময়ে সাহাবীয়ার পড়া সমস্ত জিকিরের চেয়ে ওজনে ভারী হবে।
ওই চারটি বাক্য বা দোয়াটি হলো—‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি আদাদা খালকিহি, ওয়া রিদা নাফসিহি, ওয়া যিনাতা আরশিহি, ওয়া মিদাদা কালিমাতিহি।’ এর অর্থ: আমি আল্লাহ তাআলার পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি তাঁর সৃষ্টির সংখ্যা পরিমাণ, তাঁর সত্তার সন্তুষ্টি পরিমাণ, তাঁর আরশের ওজন পরিমাণ এবং তাঁর বাণীর কালির পরিমাণ অনুযায়ী। আল্লাহ আমাদের এমন সব নেক আমল করার তাওফিক দান করুন, যা কেয়ামতের দিন মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবে।

