স্বামীর নাম নিলে তালাক: কুসংস্কার নাকি সত্য?
সমাজের একটি বিশেষ শ্রেণির মানুষ, বিশেষ করে ধর্মীয় জ্ঞানের অভাবগ্রস্ত নারীদের মাঝে একটি গভীর ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত। তারা মনে করেন, স্বামীর নাম মুখে উচ্চারণ করলে বা নাম ধরে ডাকলে তার আয়ুষ্কাল কমে যায় এবং এমনকি বৈবাহিক সম্পর্ক ভেঙে বা তালাক হয়ে যেতে পারে। এ নিয়ে অনেকের মনে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করে, যা মূলত কুসংস্কারের ফসল।
ইসলামি শরিয়ত ও দলিলভিত্তিক বিশ্লেষণে এই ধারণার কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন ওলামায়ে কেরাম। তাদের মতে, তালাকের জন্য শরিয়তে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে, কিন্তু স্বামীর নাম ধরে ডাকা তার অন্তর্ভুক্ত নয়। পবিত্র হাদিসে উল্লেখ আছে, হজরত ইবরাহিম (আ.) যখন স্ত্রী হাজেরা ও পুত্র ইসমাইলকে বেদুঈন প্রান্তরে রেখে যাচ্ছিলেন, তখন হাজেরা (আ.) তাকে ডেকেছিলেন ‘হে ইবরাহিম’ বলে (সহিহ বুখারি: ৩৩৬৫)। তবে উপমহাদেশের প্রেক্ষাপটে স্বামীকে নাম ধরে ডাকা সাংস্কৃতিকভাবে অসম্মানজনক বলে বিবেচিত হওয়ায় ফুকাহায়ে কেরাম একে ‘মাকরুহে তানজিহি’ বা অপছন্দনীয় বলে মত দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, স্বামীর নাম নিলে তালাক হয় না এবং তার হায়াত বা আয়ুও কমে না। আরব দেশগুলোতে নারীরা প্রায়ই স্বামীকে নাম ধরে ডাকেন এবং সেখানে এটি কোনো সামাজিক বা ধর্মীয় অপরাধ বলে গণ্য হয় না। বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভদ্রতা বজায় রাখা জরুরি হলেও, এই ভিত্তিহীন কুসংস্কার দূর করা অত্যন্ত প্রয়োজন। অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়িয়ে সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য বুঝসুদ্ধি অবলম্বন করাই উত্তম।

