চাঁপাইনবাবগঞ্জে জমে ওঠা লড়াই: বিএনপি-জামায়াত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উত্তপ্ত মাঠ
রাজশাহীর সর্বপশ্চিমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছে রাজনৈতিক মহল। এই আসনগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের উল্লেখযোগ্য প্রার্থী না থাকলেও, বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে লড়াই এখন তুঙ্গে। প্রচারণার মাঠে দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে, যা নির্বাচনী আবহকে ঘোলাটে করে তুলেছে। এমনকি ভোটের আগেই কেন্দ্র দখল এবং অর্থ বিতরণের অভিযোগ অস্বীকার করছেন না কেউই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাটি সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। বিএনপির ‘হরিণা’ প্রতীকের প্রার্থী হারুনুর রশীদ এবং জামায়াত সমর্থিত নুরুল ইসলাম বুলবুলের মধ্যে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হওয়ার পথে। ৪ লাখ ৬৮ হাজার ভোটারের এই আসনে হারুন আগেও তিনবার জয়ী হয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ধর্মকে ব্যবহার করে এবং কালো টাকার প্রভাব খাটিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে বুলবুল দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগের কর্মীদের দিয়ে টাকা ছড়াচ্ছেন বিএনপি প্রার্থীই। ভোটাররা মনে করছেন, এখানে জয়-পরাজয়ের ফলাফল অনুমান করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
অন্য দুই আসনেও ছবিটি অনেকটা একই। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির আমিনুল ইসলাম ও জামায়াতের ড. মিজানুর রহমান এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপির বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান মিঞা ও জামায়াতের ড. কেরামত আলী প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। ৫ লাখেরও বেশি ভোটারের শিবগঞ্জ আসনে অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা বয়সের ভার উপেক্ষা করে প্রতিদিন গড়ে পাঁচটি সভা করে চমক দিচ্ছেন। তিনি ১৯৭৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এই আসনের নিয়ন্ত্রণ ছিলেন। সব মিলিয়ে এই তিন আসনেই উভয় দলের প্রার্থীরা জয়ের স্বপ্নে বিভোর হয়ে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

