অর্থনীতিতে নতুন গতি, ভারত-চীনের বিনিয়োগে জোর সরকারের
সদ্যসাবেক সরকারের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার পর দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ভারত ও চীনের বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সোমবার রাজধানীর অর্থ মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিয়োজিত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এবং চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি এমন আগ্রহের কথা জানান। তিনি বলেন, ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে শিল্পায়নে বিনিয়োগ বাড়ালে কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে চীনের সাথে চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উপদেষ্টা জানান, ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্টের সফরে ২০ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার মাত্র ৮.২ বিলিয়ন ডলারের কাজ হয়েছে। বাকি প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতে ঋণের বদলে সরাসরি বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও চীনের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়ে একটি যৌথ কার্যকরী গোষ্ঠী গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। অন্যদিকে, ভারতের কাছ থেকে নেওয়া লাইন অব ক্রেডিটের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনা নিয়েও দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়।
এছাড়া আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে নেপাল ও ভুটানের সাথে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, অতীতে সম্পাদিত জ্বালানি চুক্তিগুলো দেশের অনুকূলে ছিল না, যা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। পাশাপাশি, নাগরিক সেবা সহজ করতে ভারতের আধার কার্ডের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’ চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

