ঈদের বোনাস নিয়ে ধোঁয়াশা, মালিকদের দাবি শতভাগ আদায় শ্রমিকদের অভিযোগ
আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে পোশাক শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে চরম বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। সরকার নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেও অর্ধেকেরও বেশি কারখানায় বোনাস না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন শ্রমিকরা। অন্যদিকে, রপ্তানিমুখী পোশাক খাতের দুই শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ দাবি করেছে, তাদের সদস্যভুক্ত প্রায় শতভাগ কারখানাই এই বেতন-বোনাস পরিশোধ করেছে।
গত ৩ মার্চ শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ৯ মার্চের মধ্যে বেতন এবং ১২ মার্চের মধ্যে বোনাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বিজিএমইএ সূত্র জানায়, তাদের ২ হাজার ২১৭টি সদস্যভুক্ত কারখানার মধ্যে ৯৬ শতাংশেরও বেশি ইতোমধ্যে বোনাস দিয়েছে। বিকেএমইএ-এর হিসাব অনুযায়ী, ৯৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ কারখানা ফেব্রুয়ারির বেতন এবং ৯৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ ঈদের বোনাস পরিশোধ করেছে। এমনকি সরকারি নির্দেশনা ছাড়াই ৪৭৮টি কারখানা মার্চ মাসের অগ্রিম বেতনও দিয়েছে।
তবে মালিকপক্ষের এই পরিসংখ্যান মানতে রাজি নন শ্রমিক নেতারা। গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু বলেছেন, ২০ রমজানের মধ্যে বেতন-বোনাস পাওয়ার কথা থাকলেও অনেকেই তা পাননি। অন্যদিকে শ্রমিক নেত্রী জলি তালুকদার বলেন, সারা বছর শ্রমিকদের ঘামের ওপর ভর করে শিল্প গড়লেও প্রতি বছর ঈদে বেতন-বোনাস নিয়ে হাহাকার লেগেই থাকে। তিনি মালিকদের মনোভাব পরিবর্তনের ওপর জোর দেন।
এ বিষয়ে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, এবার বেতন-বোনাস দেওয়া অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় দ্রুত হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ সহায়তা না থাকলে এটি সম্ভব হতো না। এজন্য তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। শ্রমিক ইউনিয়ন ও শিল্পপুলিশের পরিসংখ্যানের সাথে তাদের হিসাবের বৈষম্য প্রসঙ্গে হাতেম বলেন, অনেক কারখানা তাদের সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও সার্বিক হিসাবে গণ্য করা হয়, যা ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করে। তিনি কোনো নির্দিষ্ট কারখানার নাম ও প্রমাণ দিলে তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

