সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় বিক্ষোভ, চারজন আটক

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০২ অক্টোবর ২০২৬ ১:৪৫ এএম
সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় বিক্ষোভ, চারজন আটক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের আলোচিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় বিদ্যুৎসংযোগ কেটে দেওয়ার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ক্ষুব্ধ জনতা একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বাণিজ্য ও পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত চারজনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আটক ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, জঙ্গল সলিমপুরে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সাধারণ আবাসিক সংযোগের সঙ্গে কোনোভাবেই তুলনীয় নয়। পুরো এলাকার হাজার হাজার পরিবারের বিদ্যুৎ সরবরাহ চলছে মাত্র আটটি শিল্প মিটারের মাধ্যমে, ফলে স্বল্প আয়ের মানুষদের ইউনিটপ্রতি ১৪ টাকারও বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে। এই সমগ্র ব্যবস্থা একসময় নিয়ন্ত্রণ করতেন শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ ইয়াসিন, যার বিরুদ্ধে র্যাবের ওপর হামলা (বর্তমান এসআরবি), এক র্যাব কর্মকর্তা হত্যাসহ বহু মামলা রয়েছে। সাম্প্রতিক বড় অভিযানে মূল সন্ত্রাসীরা পলাতক অবস্থায় গেলেও তাদের অনুসারীরা বিদ্যুৎ বাণিজ্য নিজেদের দখলে নেয় বলে জানা গেছে।

অভিযোগ উঠেছে, নতুন চক্রটি সংযোগ সচল রাখতে প্রতিটি ঘর থেকে দুই হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করছে এবং এভাবে ইতোমধ্যে কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। পিডিবির অধীনে আটটি মিটারে মোট বকেয়া বিল দাঁড়িয়েছে ৭১ লাখ টাকায়। চলতি সেপ্টেম্বরে বাসিন্দাদের কাছ থেকে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা উত্তোলনের পরও কয়েকজন সদস্য অর্থ পিডিবিতে জমা না দিয়ে নিজেদের কাছে রাখেন। বকেয়ার জেরে বৃহস্পতিবার চারটি মিটারের সংযোগ কেটে দেয় পিডিবি, যা বাসিন্দাদের ক্ষোভকে আরও উসকে দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সালমান জানান, এলাকার অধিকাংশ মিটারই চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াসিন ও আলী আক্কাসের নামে নিবন্ধিত। সম্প্রতি বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণকারী চক্রের সঙ্গে পলাতক ইয়াসিনের একটি কল রেকর্ডও ফাঁস হয়েছে। বাসিন্দাদের বক্তব্য, বড় ধরনের অভিযানের পরও অঘোষিত নিয়ন্ত্রক ইয়াসিনকে গ্রেফতার করা যায়নি, ফলে বিদ্যুৎ বাণিজ্য, পরিবহন চাঁদাবাজি, দোকান বাণিজ্য ও পাহাড় কেটে প্লট বিক্রিসহ অবৈধ কার্যক্রম এখনো চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াসিন বাহিনী।

ছিন্নমূল স্কুল মাঠ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আরিফুর রহমান বলেন, মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্নের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা মিটার পরিচালনাকারী কয়েকজনকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। লাঠিচার্জের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, জনতার ওপর কোনো ধরনের বিধ্বস্ত হামলা হয়নি, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সামলানো হয়েছে।

এই ঘটনা ঘিরে জঙ্গল সলিমপুরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ রোধ ও গ্রাহকদের স্বাভাবিক আবাসিক সংযোগ নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে কি না, তা এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশার বিষয় হয়ে উঠেছে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...