নিজের দেশেই ক্যাফেতে ঢোকা নিষেধ, ইসরায়েলি পর্যটকদের একচেটিয়া দাপট

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০১ অক্টোবর ২০২৬ ৪:১৪ পিএম
নিজের দেশেই ক্যাফেতে ঢোকা নিষেধ, ইসরায়েলি পর্যটকদের একচেটিয়া দাপট

ভারতের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর কিছু ক্যাফে, রেভ পার্টি ও বিভিন্ন আয়োজনে নিজের দেশের নাগরিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন ভারতীয় অধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদ শ্রীষ্টি খান্না। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইসরায়েলি পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে শুধু ভারতীয়দের নয়, অন্য দেশের পর্যটকদেরও ঢুকতে দেওয়া হয় না। তার ভাষ্যমতে, সময়ের সঙ্গে এই বৈষম্য আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

ভারতে ইসরায়েলি তরুণ পর্যটকদের পদচারণায় মুখর অঞ্চলগুলো অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘হামুস ট্রেইল’ নামে পরিচিত। এর মধ্যে রয়েছে হিমাচল প্রদেশের কাসোল, ধরমকোট, তোশ ও পার্বতী উপত্যকার নানা এলাকা। এ ছাড়া লাদাখ, গোয়া, গোকর্ণ, পুষ্কর এবং দক্ষিণ ভারতের কিছু জায়গাতেও ইসরায়েলি পর্যটকদের উপস্থিতি লক্ষণীয়। ওই সব অঞ্চলে হিব্রু ভাষায় লেখা সাইনবোর্ড, ইসরায়েলি খাবার এবং ওই দেশের পর্যটকদের উপযোগী ক্যাফে ও থাকার ব্যবস্থা সহজেই চোখে পড়ে। বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা শেষ করে দীর্ঘ ভ্রমণে বের হওয়া ইসরায়েলি তরুণদের কাছে ভারত অন্যতম প্রিয় গন্তব্য।

এমন অভিযোগ নতুন কিছু নয়। ২০১৫ সালে হিমাচল প্রদেশের কাসোলে ‘ফ্রি কাসোল’ নামের একটি ক্যাফেকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এক ব্রিটিশ পর্যটক অভিযোগ তোলেন, তার ভারতীয় সঙ্গীকে ক্যাফেটিতে মেন্যু দেওয়া হয়নি, অথচ তাকে দেওয়া হয়েছিল। পরে ক্যাফে কর্তৃপক্ষ ‘মেম্বারস অনলি’ নীতির কথা জানিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার পাশাপাশি তদন্তেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

শ্রীষ্টি খান্না এই বৈষম্যকে বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখছেন। তার দাবি, ভারতীয়দের জন্য এক ধরনের নিয়ম আর ইসরায়েলি পর্যটকদের জন্য ভিন্ন নিয়ম চালু হয়েছে, যাকে তিনি অভিহিত করেছেন ‘ইসরায়েলি জাতিবিদ্বেষ’ বলে। এসব এলাকায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার একটি শ্রেণিবিন্যাস গড়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককেও আবর্তের কেন্দ্রে আনেন এই অধিকারকর্মী।

নিজেদের মাটিতেই নাগরিকরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন খান্না। ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক ক্রমশ ঘনিষ্ঠ হওয়ার এই সময়ে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর এমন বিভাজন নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...