এলএনজি আমদানি ও দক্ষ জনশক্তিতে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা চান রাষ্ট্রপতি

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০১ অক্টোবর ২০২৬ ৩:৪৫ পিএম
এলএনজি আমদানি ও দক্ষ জনশক্তিতে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা চান রাষ্ট্রপতি

জ্বালানি নিরাপত্তা, দক্ষ জনশক্তির অভিবাসন, কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন এবং অস্ট্রেলীয় বিনিয়োগ আকর্ষণে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর বঙ্গভবনে ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ কামনা ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাতের শুরুতে হাইকমিশনার রাইল অস্ট্রেলিয়ার গভর্নর জেনারেল মিজ স্যাম মস্টিন এসির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়ে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছাপত্র তুলে দেন। শুভেচ্ছা জানানোর জন্য গভর্নর জেনারেলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জ্বালানি খাতের আলোচনায় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জ্বালানির উৎস বহুমুখী করতে অস্ট্রেলিয়ার সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করেন এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সুযোগ তৈরির প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি অনুসন্ধান, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, চিকিৎসা কৌশল, লজিস্টিকস ও উৎপাদন খাতে অস্ট্রেলীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর অনুরোধ জানান তিনি। আগামী নভেম্বরে ক্যানবেরায় অনুষ্ঠেয় সিনিয়র কর্মকর্তাদের বৈঠক এবং টিআইএফএ বৈঠক দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।

শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রসঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশলসহ নানা কারিগরি বিষয়ে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনের সুযোগকে স্বাগত জানান তিনি। বৃত্তি ও একাডেমিক বিনিময় কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ঢাকায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরার ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠায় সহায়তাও চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি। দেশের বিপুল কর্মশক্তির দক্ষতা বাড়াতে অস্ট্রেলিয়ার টিএএফই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের টিটিসিগুলোর সহযোগিতা বিস্তারের প্রস্তাব দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটে অস্ট্রেলিয়ার অব্যাহত মানবিক সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি এবং সংকটের টেকসই সমাধানে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তিনি আশা করেন, বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে বাস্তব অর্থনৈতিক সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও চলাচল বাড়ানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেবে।

অন্যদিকে হাইকমিশনার সুসান রাইল অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়িক বিনিয়োগের পরিবেশ সুবিন্যস্ত করতে ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, কর সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ইতিবাচক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশে চলমান ব্যাংকিং সংস্কারের ভূযসী প্রশংসা করে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ করতে তার দেশের আগ্রহের কথাও জানান তিনি।

সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিনটন পবকে উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...