অনার্সে প্রথম হয়েও স্বর্ণপদকের তালিকায় নাম নেই, প্রতিকার চাইলেন ইবির শিক্ষার্থী
সেশনজটের কারণে ফলাফল প্রকাশে দেরি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদকের প্রস্তাবিত তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক মেধাবী শিক্ষার্থী। এ নিয়ে প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন তিনি। ফার্মেসি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বাবলী সাবিনা আজহারের কাছে লিখিতভাবে এ আবেদন জানান।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অনার্স পরীক্ষায় ৩.৯০ সিজিপিএ অর্জন করে তিনি বিভাগে প্রথম স্থান দখল করেছেন। কিন্তু বিভাগের সেমিস্টার ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২০২৫ সালের নভেম্বরে। এতে ফলাফল প্রকাশের সময়ও পিছিয়ে যায়, ফলে স্বর্ণপদকের তালিকায় তার নাম জায়গা করে নিতে পারেনি। তার বক্তব্য, বিভাগীয় সেশনজট ও প্রশাসনিক কারণে সৃষ্ট বিলম্বের দায় কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের ওপর বর্তানো উচিত নয়। এই বিলম্বের ফলে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি প্রাপ্য সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক সংক্রান্ত নীতিমালা সময় ও বছরভেদে বদলে যেতে পারে বলে ভবিষ্যৎ সুযোগের ওপর নির্ভর না করে বর্তমান পরিস্থিতিতেই প্রশাসনিকভাবে ন্যায়সঙ্গত সমাধান চাওয়া হয়েছে আবেদনে।
এ বিষয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বাবলী সাবিনা আজহার বলেন, তালিকা তৈরির সময় সেশনের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি। ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মধ্যে যারা সংশ্লিষ্ট বছরে সালভিত্তিক প্রথম হয়েছেন, শুধু তাদেরই নির্বাচন করা হয়েছে। অন্যদিকে ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ জানান, এ বিষয়ে তিনি একটি চিঠি পেয়েছেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণ করে মাত্র দুই দিন হলো বলে বিষয়টি সঠিকভাবে জেনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, এরই মধ্যে শিক্ষার্থী ডিন ও ফার্মেসি বিভাগের সভাপতি ড. মাসুদ রানার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিলম্বের কারণ বিবেচনায় নিয়ে ন্যায়সঙ্গত প্রতিকার চেয়েছেন। তবে বিভাগীয় সভাপতির সঙ্গে টানা দুই দিন ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এই ঘটনায় সেশনজটের শিকার শিক্ষার্থীদের প্রতিকার নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা পরবর্তী সময়ে নজরে রাখতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

