সাড়ে ৭ বছরে সড়কে ৭ হাজার শিক্ষার্থীর মৃত্যু, সবচেয়ে বেশি দায়ী মোটরসাইকেল
দেশের সড়কগুলো যেন শিক্ষার্থীদের জন্য মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। গত সাড়ে সাত বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭ হাজার ৩৬৪ জন শিক্ষার্থী। এই হতাহতের মধ্যে ৫২ শতাংশের ঘটনাই ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে এই হৃদয়বিদারক তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৩ হাজার ৮৪১ জন শিক্ষার্থী বাইক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এছাড়া পথচারী হিসেবে যানবাহনের চাপা পড়ে ১ হাজার ৯২৩ জন এবং যানবাহনের যাত্রী হিসেবে ৯২৭ জন নিহত হয়েছেন। বাইসাইকেল ও রিকশা আরোহী হিসেবে ৫১৯ জন এবং অটোরিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে ১৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৫ থেকে ১২ বছর বয়সীরা গ্রামীণ সড়কে স্কুলে যাওয়ার পথে বা বাড়ির আশপাশে খেলার সময় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। অন্যদিকে ১৩ থেকে ২৫ বছর বয়সীরা মোটরসাইকেল চালিয়ে বা আরোহী হয়ে আঞ্চলিক ও মহাসড়কে বেশি দুর্ঘটনায় পড়ছেন।
বছর ভিত্তিক পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সালে ৬৯৩ জন, ২০২০ সালে ৭১৯ জন, ২০২১ সালে ৯৩৬ জন, ২০২২ সালে ১ হাজার ৩৮৫ জন, ২০২৩ সালে ১ হাজার ১৫৩ জন, ২০২৪ সালে ১ হাজার ৭৩ জন, ২০২৫ সালে ১ হাজার ১৪ জন এবং ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৩৯১ জন শিক্ষার্থী মারা গেছেন। এছাড়া রেললাইনে অসাবধানে পারাপার ও কানে হেডফোন লাগিয়ে চলার কারণে ১ হাজার ২৩৭ জন ট্রেনে কাটা পড়েছেন।
দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, অনিরাপদ যানবাহন, সচেতনতার অভাব এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা। এই পরিস্থিতি উন্নতির জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তা ক্যাম্পেইন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালানোর বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

