মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ আতঙ্কে দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট, পাম্পে দীর্ঘ লাইন

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট যুদ্ধ আতঙ্কে দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রল ও অকটেনের পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইন পড়েছে। যদিও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে, তবুও আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটা এবং সম্ভাব্য বাজার কারসাজির কারণে এই সংকট বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে পেট্রলের মোট চাহিদা ছিল চার লাখ ৬২ হাজার ৪৭৫ টন, যার পুরোটাই দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হয়েছে। ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) অপরিশোধিত তেল থেকে ১৬ শতাংশ এবং বেসরকারি রিফাইনারি থেকে ৮৪ শতাংশ পেট্রল উৎপাদিত হয়েছে। অন্যদিকে প্রাকৃতিক গ্যাসের উপজাত কনডেনসেট থেকে অকটেন তৈরি করা হলেও চাহিদার ঘাটতি পূরণে বিপিসি দুই লাখ ৩৪ হাজার ৮৩ টন অকটেন আমদানি করেছে। গত পাঁচ বছরে পেট্রল ও অকটেনের ব্যবহার যথাক্রমে তিন লাখ ৭৮ হাজার টন থেকে চার লাখ ৬২ হাজার টন এবং তিন লাখ টন থেকে চার লাখ ১৫ হাজার টনে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে গণপরিবহণ খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। মতিঝিলের একটি পাম্পে অপেক্ষারত মামুনুল জানান, ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে থাকার পরেও তেল মিলছে না। রাইড শেয়ারিং চালক হোসেন বলেন, লাইনে সময় নষ্টের কারণে তাদের আয় কমে যাচ্ছে। অপরদিকে ডিজেল সংকটের কারণে শ্যামলী পরিবহনের একজন সুপারভাইজার জানান, ২৫০ লিটারের পরিবর্তে এখন ২০০ লিটার ডিজেলও জোটানো কঠিন হয়ে পড়েছে, যা যানবাহনের ট্রিপ কমাতে বাধ্য করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থার স্বচ্ছতা, কঠোর নজরদারি এবং ভোক্তা সচেতনতা জরুরি।

