ঈদের পর নতুন সরকারের সামনে জ্বালানি সংকট ও অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ
মাত্র এক মাস আগে গঠিত নতুন সরকারের জন্য ঈদের পরবর্তী সময়টি বেশ কঠিন হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ধরে রাখা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠা—এই তিনটি বিষয় নিয়েই সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন নীতি নির্ধারক এবং অর্থনীতিবিদরা।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা বর্তমানে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দর ও সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ঈদের পর শিল্প-কারখানা পুরোদমে চালু হলে এবং এপ্রিল-মে মাসের প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লে এই সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম এবং সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, বর্তমান রাজস্ব ঘাটতির মধ্যে জ্বালানি আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়বে, যা অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও নানা চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের মতো ইস্যুগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে সরকারকে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ঈদের পর এই কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। তবে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হলে জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে সুষম সমন্বয় করতে হবে নতুন সরকারকে।

