ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: মধ্যপ্রাচ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আগুন

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৫ মার্চ ২০২৬ ২:৩১ এএম
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: মধ্যপ্রাচ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আগুন

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে, যাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশাল সামরিক অভিযান বলে অভিহিত করেছেন। ওয়াশিংটন একে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নাম দিলেও এর ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েলি ভূখণ্ড ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে।

এই সংঘাতে প্রাণহানির সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশটিতে অন্তত ৭৮৭ জন নিহত হয়েছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাব শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় ১৬৫ জন শিশু ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের পাল্টা হামলায় কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, এতে ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও ১৮ জন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, যদিও তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে, তবুও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র তাদের সুরক্ষা বলয় অতিক্রম করে টেকটিক্যাল অপারেশন সেন্টারে আঘাত হেনেছে।

সামরিক এই সংঘাত আনুষ্ঠানিকভাবে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণার মধ্যে পড়ে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার একচ্ছত্র ক্ষমতা কংগ্রেসের হলেও প্রেসিডেন্ট ‘কমান্ডার-ইন-চিফ’ হিসেবে তাৎক্ষণিক হুমকি মোকাবিলায় সামরিক বাহিনী প্রয়োগ করতে পারেন। হ্যামলাইন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডেভিড শুল্টজ ব্যাখ্যা করেন যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। যদিও ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ প্রেসিডেন্টের একতরফা সামরিক পদক্ষেপ ৬০ দিনের মধ্যে সীমিত করেছে, তবু বর্তমান পরিস্থিতি মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...