পাংশায় ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতা, দর্শকের ঢল

রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের পেপুলবাড়িয়া মাঠে শতবর্ষের ঐতিহ্যকে ধারণ করে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা এই প্রাচীন ক্রীড়াকে টিকিয়ে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এর পরিচয় তুলে ধরতেই পেপুলবাড়িয়া যুব সমাজ আয়োজন করে এই প্রতিযোগিতার।
রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয় এক প্রাণবন্ত উৎসবের আবহ। আশপাশের গ্রাম ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে আগত হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে পুরো মাঠ পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। বৈশাখের আগমনী আমেজে মুখর এই আয়োজন ছোট-বড় সব বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত।
এবারের প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মোট ১৯টি ঘোড়া অংশ নেয়। যশোর, নড়াইল, মাগুরা ও ফরিদপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ঘোড়ার মালিক ও দক্ষ আরোহীরা অংশগ্রহণ করেন এই প্রতিযোগিতায়। প্রতিটি দৌড়ে ছিল তুমুল উত্তেজনা, আর দর্শকদের করতালি ও উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ।
প্রতিযোগিতায় যশোর-নড়াইল থেকে আসা “ডিজে” নামের ঘোড়া প্রথম স্থান অর্জন করে সবার নজর কাড়ে। দ্বিতীয় স্থান লাভ করে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার “রেজোয়ান ডায়মন্ড” এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে যশোর-নড়াইল থেকে অংশ নেওয়া “রাফসান” নামের ঘোড়া।
বিজয়ীদের জন্য রাখা হয় আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা। প্রথম স্থান অধিকারীকে একটি ওয়ালটন ফ্রিজ প্রদান করা হয়। দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী পান ৩২ ইঞ্চি এলইডি স্মার্ট টেলিভিশন এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারীকে দেওয়া হয় ২৪ ইঞ্চি স্মার্ট টেলিভিশন।
আয়োজকরা জানান, এই অঞ্চলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা আয়োজনের ঐতিহ্য রয়েছে, যা গ্রামীণ সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু আধুনিকতার প্রভাবে এ ধরনের আয়োজন ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং তরুণ প্রজন্মকে শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত করানোর লক্ষ্যেই তাদের এই উদ্যোগ।
তারা আরও জানান, ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এই আয়োজন অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরও বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।
স্থানীয়দের মতে, এমন আয়োজন শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি গ্রামীণ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করার এক অনন্য মাধ্যম। পেপুলবাড়িয়ার এই ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা তাই কেবল একটি খেলা নয়—এটি গ্রামবাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

