মার্কিন হামলায় মিত্ররা ধরাশায়ী, তবু চীনের নীরবতার কারণ কী?

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৫ মার্চ ২০২৬ ১২:৪১ এএম
মার্কিন হামলায় মিত্ররা ধরাশায়ী, তবু চীনের নীরবতার কারণ কী?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে চীনের দুই ঘনিষ্ঠ মিত্রকে সরাসরি আঘাত করেছেন। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কারাকাস থেকে অপহরণ করে মার্কিন স্পেশাল ফোর্স নিউইয়র্কে আটক করেছে এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে নিহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী ও কৌশলগত মিত্রদের এই বিপর্যয়ের মুখেও বেইজিং কেবল কূটনৈতিক নিন্দা জানিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে, প্রত্যক্ষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

বিশ্লেষকদের অভিমত, শি জিনপিং প্রশাসন এখন কঠোর বাস্তববাদের ওপর ভিত্তি করে নীতি নির্ধারণ করছে। ইরান বা অন্য মিত্রদের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের স্থিতিশীলতা এবং আসন্ন দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলনই বেইজিংয়ের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের সিনিয়র ডিরেক্টর ক্রেইগ সিঙ্গেলটন মনে করেন, ঝুঁকি এড়াতে চীন কেবল জাতিসংঘে কথা বলবে, কিন্তু তেহরানকে সামরিক বা বড় ধরনের সহায়তা দিতে আগ্রহী নয়। এমনকি ইরান ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে চীনের বাণিজ্য তুলনামূলকভাবে কম, যা তাদের এই নীরব ভূমিকার পেছনের আরেকটি কারণ।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র অ্যানালিস্ট উইলিয়াম ইয়াং জানান, বেইজিং ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংঘাত বাড়িয়ে বাণিজ্য চুক্তি বা সম্পর্কের উন্নতির ধারাকে ঝুঁকিতে ফেলতে চায় না। চীন আসলে মধ্যপ্রাচ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নজর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে সরে যাওয়াকে স্বাগত জানাতে পারে। অতীতে চীন ইরানকে কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্মে স্থান দিলেও, কঠিন সময়ে তারা রিস্ক নিতে চাইছে না।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...