ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টিতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ফুরিয়ে আসা, ধুঁকছে অর্থনীতি

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৪ মার্চ ২০২৬ ১০:০৬ পিএম
ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টিতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ফুরিয়ে আসা, ধুঁকছে অর্থনীতি

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন চালানোর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের তীব্রতা বেড়েছে। এর জেরে তেহরান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাতে বর্তমানে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইরানের এই পাল্টা হামলা মোকাবিলা করতে গিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার মজুদ প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। এ অবস্থায় দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে ইসরাইল কতদিন টিকতে পারবে তা নিয়ে দেশটিতে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরাইল সরকারকে হাজার হাজার রিজার্ভ সৈন্য ডাকতে হয়েছে এবং দেশজুড়ে জারি করতে হয়েছে বিমান হামলার সতর্কবার্তা। তেল আবিব ও হাইফার মতো শহরগুলোতে ইরানি হামলার ধারাবাহিকতায় জরুরি সেবাগুলো চরম চাপের মুখে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সময় কাটাতে হচ্ছে। তবে দেশটির অভ্যন্তরে যুদ্ধপন্থী মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসরাইলি রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ শির হেভার বলেছেন, সমাজে এখন চরম সামরিকবাদ ও অতি-আত্মবিশ্বাস বিরাজ করছে। আর তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড্যানিয়েল বার-তাল একে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের ওপর জার্মান বোমা হামলার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় গণহত্যা এবং লেবানন-সিরিয়া সীমান্তে চলমান অভিযানের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ইসরাইলের জন্য তা মারাত্মক হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘলড়াইয়ের প্রস্তুতির কথা জানালেও ইসরাইলের অর্থনীতি ও মানবসম্পদ ইতিমধ্যেই চরম ক্লান্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক মেরুকরণ ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশটি থেকে বেশি সংখ্যক মেধাবী তরুণ পাড়ি জমাচ্ছেন অন্যদেশে, যা ভবিষ্যতে তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...