খামেনিকে হত্যার পরও ইরানের দৃঢ় অবস্থান, দীর্ঘ যুদ্ধের আশঙ্কায় বিব্রত ট্রাম্প

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৪ মার্চ ২০২৬ ৯:৪৫ পিএম
খামেনিকে হত্যার পরও ইরানের দৃঢ় অবস্থান, দীর্ঘ যুদ্ধের আশঙ্কায় বিব্রত ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং সেখানে ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করেছিলেন, তিনি হয়তো আশা করেছিলেন তেহরান দ্রুত হার মানবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই আক্রমণের পর পরিস্থিতি ভিন্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানি নেতারা আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছেন না। উল্টো তারা সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনার ওপর পাল্টা হামলা চালাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর হুমকি দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলকে অস্থির করে তুলেছে। ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার আগে তারা নিজেদের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চায়।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের দেওয়া বিভিন্ন বার্তায় এক ধরনের বিভ্রান্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি কখনও বলছেন যুদ্ধ কয়েক দিনে শেষ হবে, আবার কখনও বলছেন তা পাঁচ সপ্তাহেও গড়াতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যুদ্ধকে ইরানি জনগণের স্বাধীনতার লড়াই বলে দাবি করলেও বাস্তবতা হলো তিনি দ্রুত কোনো সমাধান চাইছেন। গত বছর ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানের সময় দেখা গিয়েছিল, জয় নিশ্চিত না হলে তিনি দ্রুত আপোষ করতে এগিয়ে আসেন। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আর্থিক ও সামরিকভাবে ক্ষতিকর হতে পারে, যা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভাবমূর্তির জন্যও হুমকিস্বরূপ।

অর্থনৈতিক সংকট ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইরান দুর্বল হলেও তাদের রাজনৈতিক কাঠামো এখনও ভেঙে পড়েনি। ট্রাম্প সম্ভবত খামেনিকে হত্যার মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শুধুমাত্র বিমান হামলার মাধ্যমে দশকের পুরনো এই শাসন ব্যবস্থাকে উৎখাত করা সম্ভব হয়নি। ট্রাম্প এখন এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন যা তিনি সাধারণত এড়িয়ে চলেন—দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ। মার্কিন জনমত এই যুদ্ধের প্রতি ইতিমধ্যেই বিরূপ মনোভাব পোষণ করছে, যা হোয়াইট হাউসের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...