মিত্রদের বিপদে চীনের নীরবতা, কূটনৈতিক ভারসাম্যের নতুন হিসাব

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৪ মার্চ ২০২৬ ৯:৩১ পিএম
মিত্রদের বিপদে চীনের নীরবতা, কূটনৈতিক ভারসাম্যের নতুন হিসাব

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বেইজিংয়ের দুই ঘনিষ্ঠ মিত্র ভেনেজুয়েলা ও ইরানের বিরুদ্ধে একযোগে অভিযান চালিয়েছেন। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে নিউইয়র্কে নির্জন কারাগারে রাখা হয়েছে এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর চীন আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াশিংটনের ভূমিকার নিন্দা জানালেও প্রতিক্রিয়ার মুখে তেমন কোনো বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি, যা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষকদের অভিমত, শি জিনপিং প্রশাসন এখানে কূটনৈতিক বাস্তববাদকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। আগামী দিনে বেইজিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ট্রাম্পের আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে চীন পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে চাইছে না। তাছাড়া ওয়াশিংটনের সামরিক মনোযোগ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সরে যাওয়াকে বেইজিং নিশ্চয়ই ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে। ফলে তাদের মূল লক্ষ্য এখন ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

ওয়াশিংটনের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিস’-এর ক্রেইগ সিঙ্গেলটন মনে করেন, চীন ঝুঁকি এড়াতে পছন্দ করে এবং কেবল আন্তর্জাতিক ফোরামে কথা বললেও তেহরানকে বড় ধরনের সামরিক সহায়তা দেবে না। অপরদিকে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ’-এর উইলিয়াম ইয়াং বলেছেন, বাণিজ্য চুক্তি ও দ্বিপাক্ষিক সুসংহত সম্পর্কের স্বার্থে বেইজিং ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে তৈরি হওয়া ইতিবাচক সমীকরণ নষ্ট করতে চায় না।

চীন যদিও ইরানের বৃহত্তম তেল ক্রেতা এবং কূটনৈতিক সমর্থক, তবুও তাদের এই নীরবতা প্রমাণ করে যে দেশটির কৌশলগত গুরুত্ব ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্কের তুলনায় কম। বেইজিং মধ্যপ্রাচ্যে ভারসাম্যপূর্ণ নীতি অনুসরণ করতে চায়, যেখানে ইরান ইস্যুতে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলা এবং নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করাই তাদের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...