ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টিতে কতদিন টিকবে ইসরাইল

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসনের পর মধ্যপ্রাচ্য এখন পুরোদমে যুদ্ধের অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে। এর জেরে ইরান এখন ঝড়ের বেগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর। এই অবিরাম আক্রমণ মোকাবিলা করতে গিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার মজুদ প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সামনে ইসরাইল আর কতদিন টিকে থাকতে পারবে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য তাদের সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতির কথা জানালেও ইসরাইলের অবস্থা ভিন্ন। গাজা, লেবানন ও সিরিয়া যুদ্ধে ইতোমধ্যে ক্লান্ত দেশটির সাধারণ মানুষ এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। হাইফা ও তেল আবিবের মতো শহরগুলোতে স্কুল-কলেজ বন্ধ, বিমান হামলার সতর্কতা জারি এবং হাজার হাজার রিজার্ভ সৈন্যকে মোতায়েন করতে বাধ্য হয়েছে নেতানিয়াহু সরকার। ইসরাইলি অর্থনীতিবিদ শির হেভার মনে করেন, যুদ্ধের শুরুতে যে আতঙ্ক ছিল তা এখন উগ্র সামরিকবাদে পরিণত হয়েছে এবং সমাজের মূল স্রোতে কট্টরপন্থীরা চলে এসেছে।
তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড্যানিয়েল বার-তাল বর্তমান পরিস্থিতির সাথে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার লন্ডন বোমা হামলা বা ‘ব্লিৎজ’-এর তুলনা টেনেছেন। তিনি বলেন, ব্রিটিশদের মতোই ইসরাইলিরাও এখন বিশ্বাস করছে তারা একটি অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। তবে এই সংঘাতের ধারাবাহিকতায় ইসরাইলি সমাজ যেভাবে কট্টরপন্থার দিকে ঝুঁকছে এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে মেধাবীদের দেশ ছাড়ার হার বাড়ছে, তা দেশটির ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

