ইরানের মিসাইল বৃষ্টিতে ইসরাইল: যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য কতটুকু?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসনের পর ইরান পাল্টা হামলা শুরু করায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরান ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রাখায় তেল আবিবের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। হাইফা ও তেল আবিবের মতো শহরগুলোতে টানা বিমান হামলার সতর্কতা জারি থাকায় স্কুল বন্ধ এবং হাজার হাজার রিজার্ভ সৈন্য মোতায়েন করতে বাধ্য হয়েছে দেশটি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত মোকাবিলার সক্ষমতার কথা জানিয়েছেন। তবে গাজা, লেবানন ও সিরিয়া যুদ্ধে ইতিমধ্যেই অর্থনৈতিকভাবে ক্লান্ত ইসরাইলের জন্য এই নতুন সংঘাত আরও বেশি ব্যয়বহুল হতে পারে। ইসরাইলি রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ শির হেভার মনে করেন, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের ভীতির চেয়ে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন; এখন ইসরাইলি সমাজে অতি-আত্মবিশ্বাস ও সামরিকবাদ জোয়ার বয়ে গেছে।
তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড্যানিয়েল বার-তাল এই পরিস্থিতিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লন্ডনের বোমা হামলা বা ব্লিৎজের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে এই চরম রাজনৈতিক মেরুকরণ ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে দেশ থেকে মেধাবী ও তরুণ প্রজন্মের পালানোর হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের অভিমত, কয়েক সপ্তাহের এই যুদ্ধ সমাজকে আরও বেশি সামরিকীকরণ ও কট্টরপন্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

