ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরাইলের সহ্যশক্তির প্রশ্ন, ফুরিয়ে যাচ্ছে অস্ত্র ভাণ্ডার

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৪ মার্চ ২০২৬ ৭:৫৬ পিএম
ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরাইলের সহ্যশক্তির প্রশ্ন, ফুরিয়ে যাচ্ছে অস্ত্র ভাণ্ডার

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য এক নতুন যুদ্ধের সম্মুখীন। পাল্টা জবাবে ইরান ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, যা মোকাবিলায় তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ফুটে উঠছে। এমতাবস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘ লড়াইয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হলেও ইসরাইলের অবস্থা ভিন্ন। গাজায় গণহত্যা, লেবানন ও সিরিয়া সীমান্তে সংঘাত—সব মিলিয়ে দেশটির অর্থনীতি ও সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই চাপে রয়েছে। তেল আবিব ও হাইফার মতো শহরগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন হামলা ও এয়ার রেইড সতর্কতায় স্কুল-কলেজ বন্ধ, হাজার হাজার রিজার্ভ সেনা মোতায়েন করতে বাধ্য হচ্ছে নেতানিয়াহু সরকার। সাধারণ মানুষকে বারবার বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে হচ্ছে।

এই সংকটে ইসরাইলি সমাজে তীব্র সামরিকবাদের উত্থান ঘটেছে। রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ শির হেভার মনে করেন, গত বছরের আতঙ্কের বদলে এখন ইসরাইলিদের মধ্যে অতি-আত্মবিশ্বাস বিরাজ করছে। কট্টরপন্থী ছাড়া প্রায় সব রাজনৈতিক দলই যুদ্ধের প্রতি সমর্থন দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তবে এই যুদ্ধ ইসরাইলি সমাজকে আরও কট্টর ও মেরুকরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশ্লেষকদের অনেকে এই পরিস্থিতিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লন্ডনের ‘ব্লিৎজ’ হামলার সাথে তুলনা করছেন। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড্যানিয়েল বার-তাল বলেছেন, ব্রিটিশরা যেমন অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য বোমা বর্ষণ মেনে নিয়েছিল, ইসরাইলিদের অনুভূতিও এখন অনুরূপ। কিন্তু এই চলমান যুদ্ধ ইতোমধ্যেই দেশ থেকে মেধা পাচার বৃদ্ধি পেতে দেখেছে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...