ইরান যুদ্ধে নতুন মোড়: দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের চতুর্থ দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রাথমিক পরিকল্পনা ব্যর্থ হতে বসেছে। দ্রুত তেহরানে শাসন পরিবর্তনের লক্ষ্যে শুরু হওয়া এই অভিযানে ইরান বরং আরও শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং পাল্টা হামলা চালিয়ে মিত্রশক্তির ব্যাপক ক্ষতি করেছে। সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার পরও ইরান কোনো আলোচনায় বসতে রাজি নয়, বরং মার্কিন ঘাঁটি আশ্রয় দানকারীদের কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও তেলআবিব তাদের সামরিক কৌশল নতুন করে মূল্যায়ন করছে।
একক বড় আকারের হামলার পরিবর্তে ছোট ছোট ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী করার কৌশল নিয়েছে ইরান। তারা দাবি করছে, মাসের পর মাস এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। এছাড়াও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার হুমকি দিয়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে তারা। এর প্রভাবে সৌদি আরব তাদের বৃহত্তম তেল শোধনাগার এবং কাতার এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, কারণ ইরান সেখানকার অন্তত ছয়টি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
ইরানের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী বড় কোনো আন্দোলন না দেখায় যুক্তরাষ্ট্র এখন কুর্দি ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। জবাবে ইরান ইরাকের এরবিলের কাছে কুর্দি শিবিরে হামলা চালিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সফলতার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষতির ভারসাম্যের ওপর এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। সময় জয় করে এবং বিভিন্ন খাতে চাপ সৃষ্টি করে যুক্তরাষ্ট্রকে পিছু হটতে বাধ্য করাই ইরানের মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন তারা।

