ইরান যুদ্ধ: যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বপরিকল্পিত আগ্রাসন ও সাংস্কৃতিক সংঘাত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক আগ্রাসনের মুখে ইরান, যা বিশ্লেষকদের কাছে একটি পূর্বপরিকল্পিত সাংস্কৃতিক যুদ্ধ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওমর আল-বুসাইদি জানিয়েছেন, চুক্তির দ্বারপ্রান্তে থাকা সত্ত্বেও ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ মূলত ইরানের ইসলামী বিপ্লবকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা। মুসলিম বিশ্বের জন্য এই ঘটনা ৯/১১-এর পর থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
এই সংঘাতের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ২০০১ সালে মার্কিন জেনারেল ওয়েসলি ক্লার্ক সাতটি মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের যে পরিকল্পনা করেছিলেন, ইরান তার শেষ লক্ষ্য হিসেবে রয়ে গেছে। এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইসরায়েল সফরের পর দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি এবং ওয়াশিংটনে সাতটি মুসলিম দেশের অংশগ্রহণে ‘বোর্ড অব পিস’ বৈঠক চলাকালীন এই হামলা শুরু হওয়া বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই যুদ্ধের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি নিজের ‘আর কোনো যুদ্ধ নয়’ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন এবং তার দেশের ৭৫ শতাংশ মানুষের বিরোধিতার মুখে পড়েছেন। ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রক্রিয়া এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও ধুলিসাৎ হতে বসেছে। ইরানের সাথে ৯০০ কিলোমিটার সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া প্রতিবেশী পাকিস্তানসহ সমগ্র অঞ্চলে এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

