কুয়েতে মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস: ইরানের দাবি ও সেন্টকমের ব্যাখ্যা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনের তৃতীয় দিনে কুয়েতের আকাশে তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গত রোববার (১ মার্চ) কুয়েতের আকাশসীমায় এফ-১৫ স্ট্রাইক ইগল মডেলের এই তিনটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে এই বিপত্তি ঘটেছে। তবে পরে যুক্তরাষ্ট্র সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, ভুলবশত কুয়েতের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায়ই এই ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২ মার্চ) সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, বিমানে থাকা ছয়জন ক্রু সদস্যই নিরাপদে বেরিয়ে এসেছেন এবং তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। কুয়েতি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অপরদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করেছে যে তারাই কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। দুই পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েতের হাতে আছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যবস্থা (পিএসসি-২ ও পিএসি-৩), ইতালির স্পাডা ২০০০ এবং নরওয়ের তৈরি নাসামস। ইরানের হামলা মোকাবিলায় এই ব্যবস্থাগুলোই মূলত ব্যবহৃত হয়। এফ-১৫ স্ট্রাইক ইগলকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী যুদ্ধবিমান হিসেবে গণ্য করা হয়, যা এখন পর্যন্ত ১০৪টি শত্রুপক্ষীয় বিমান ধ্বংস করেছে কিন্তু নিজে কখনো আঘাতের শিকার হয়নি। শব্দের চেয়ে আড়াই গুণ বেগে উড়তে সক্ষম এই বিমানটি মাটির কাছাকাছি নেমে এসেও শত্রুর ওপর আঘাত হানতে পারে। এই ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

