শৈশবে খামেনির ভয় ছিল মক্তবের শিক্ষককে, ক্ষুধার্ত হয়েই ঘুমাতে হতো

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০২ মার্চ ২০২৬ ৮:৪৭ পিএম
শৈশবে খামেনির ভয় ছিল মক্তবের শিক্ষককে, ক্ষুধার্ত হয়েই ঘুমাতে হতো

ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জন্ম হয়েছিল ১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে। জাতিগতভাবে আজারবাইজানি এই পরিবারের পূর্বপুরুষরা ইরাক থেকে ইরানে এসে বসতি স্থাপন করেছিলেন। তার বাবা সৈয়দ জওয়াদ খামেনি ছিলেন একজন খ্যাতনামা শিয়া পণ্ডিত এবং মা খাদিজে মির্দামাদীর কাছ থেকেই তিনি প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করেন।

শৈশবে খামেনির জীবন ছিল দারিদ্র্য ও ভয়ের মধ্যে দিয়ে কাটা। মাত্র চার বছর বয়সে বড় ভাইয়ের সঙ্গে তিনি স্থানীয় মক্তবে যাওয়া শুরু করেন। নিজের লেখা স্মৃতিকথায় তিনি উল্লেখ করেছেন, ওই মক্তবের শিক্ষককে তিনি খুব ভয় পেতেন। কারণ প্রতি শনিবার ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে শরীরের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত বেত্রাঘাত করতেন। অভাবের সংসারে তাকে প্রায়ই অনাহারে ঘুমাতে হয়েছে। এমনকি পুরনো ও ময়লা পোশাকের জন্য সহপাঠীদের কটাক্ষ ও বিদ্রূপ মেনে নিতে হয়েছে তাকে।

তবে এই কঠিন সময়েও সাহিত্য ছিল তার একমাত্র সঙ্গী। মায়ের হাত ধরেই তার মধ্যে কবিতা ও সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা জন্মে। উচ্চশিক্ষার জন্য কোমে যাওয়ার আগেই তিনি প্রায় এক হাজার উপন্যাস পড়ে ফেলেছিলেন, যার মধ্যে লিও টলস্টয় ও ভিক্টর হুগোর বইও ছিল। যৌবনে আমিন ছদ্মনামে কবিতা লেখা শুরু করেন তিনি। ১৯৫৫ সালে কোমের এক সভায় তিনি ইরানি বিপ্লবের স্থপতি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির সঙ্গে পরিচিত হন, যা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...