খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ নিলেন আলী লারিজানি

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিমান হামলায় নিহত হওয়ার পর ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। এই সংকটকালীন মুহূর্তে দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ আলী লারিজানি। রোববার তিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে, পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত একটি ‘অস্থায়ী পরিচালনা পরিষদ’ গঠন করা হবে।
গত বছর আগস্টে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সচিব হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই লারিজানি খামেনির বিশ্বস্ত কৌশলবিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ওমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা এবং রাশিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদারে তিনি মূখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। একই হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আব্দুলরহিম মোসাভি নিহত হয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে লারিজানি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানকে ধ্বংসের চেষ্টার অভিযোগ এনেছেন এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পারমাণবিক ইস্যুতে তিনি বাস্তববাদী অবস্থান নিলেও গত জানুয়ারিতে বিক্ষোভ দমনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। ১৯৫৮ সালে জন্ম নেওয়া এই নেতা একসময় রেভোল্যুশনারি গার্ডের সদস্য ছিলেন এবং দীর্ঘ ১২ বছর পার্লামেন্ট স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। খামেনির অনুপস্থিতিতে দেশের ভারসাম্য রক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলা করা তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

