কংগ্রেস ছাড়াই ইরান আক্রমণ: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মাঝেই গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইসরায়েল তেহরানে আক্রমণ চালায় এবং যুক্তরাষ্ট্র এতে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এরপর থেকে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় মার্কিন বাহিনী হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কংগ্রেসের পূর্বানুমোদন ছাড়াই এই সামরিক অভিযান পরিচালনার কারণে তার বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। আইন বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কি আসলে কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত নয়?
আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের আইনজীবী ক্রিস্টোফার অ্যান্ডার্স জানিয়েছেন, যুদ্ধ ঘোষণা বা সেনা প্রেরণের ক্ষমতা একচ্ছত্রভাবে কংগ্রেসের। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আইনগত প্রক্রিয়া মেনে কংগ্রেসের অনুমোদন না নিয়েই সংবিধান লঙ্ঘন করে এই ক্ষমতা নিজের দখলে নিয়েছেন। জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ইলিয়া সোমিনও মনে করেন, ট্রাম্প নিজেই যেহেতু এটিকে যুদ্ধ বলে অভিহিত করেছেন, তাই কংগ্রেসের অনুমোদন ব্যতিরেকে এটি পরিচালনা স্পষ্টতই বেআইনি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদিও সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে (আর্টিকেল ২) উল্লেখিত সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের ক্ষমতার ওপর ভর করেই এই অভিযান জায়েজ করতে চাইছেন। হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া দায়মুক্তির রায় এবং গত গ্রীষ্মে ইরানে ও জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় চালানো অভিযানের আইনি ব্যাখ্যাকে এখানে কাজে লাগানো হচ্ছে। তবে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এই অভিযানের আইনি ভিত্তি নিয়ে আরও জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন খোদ আইন বিশেষজ্ঞরা।

