তিন দশক শাসনের পর খামেনির মৃত্যু, যেভাবে ক্ষমতায় এলেন

তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালনের পর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এই ঘটনা ঘটে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরানের রাজনীতিতে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত, যেখানে রাষ্ট্রপতি বা সংসদের চেয়ে সর্বোচ্চ নেতার ক্ষমতা অতুলনীয়।
১৯৮৯ সালের জুনে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর আলী খামেনি ক্ষমতায় আসেন। তবে সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ‘গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ’ উপাধি না থাকা সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞ পরিষদ তাকে নির্বাচিত করে। পরে সংবিধান সংশোধন করে তাকে অনুকূল করা হয় এবং রাতারাতি তাকে আয়াতুল্লাহ পদে উন্নীত করা হয়। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী পদ বিলুপ্ত করে রাষ্ট্রপতির হাতে বেশি ক্ষমতা দেওয়া হলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ থাকে সর্বোচ্চ নেতার হাতেই।
সামরিক বাহিনীর প্রধান হিসেবে খামেনি দেশের সব বড় সিদ্ধান্ত নিতেন, এমনকি পারমাণবিক চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও তার সম্মতি ছাড়া কিছুই করা সম্ভব ছিল না। তার শাসনামলে মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ মোট ছয়জন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করলেও তারা কার্যত ইসলামি প্রজাতন্ত্রের মূল কাঠামোর বাইরে যেতে পারেননি। সংস্কারপন্থি প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি যখন পশ্চিমাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করেছিলেন, তখনও খামেনি তাতে বাধা দিয়েছিলেন।
খামেনির মৃত্যুর পর এখন প্রশ্ন উঠেছে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন। ইরানের কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থায় এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের কোনো ভূমিকা থাকে না, ক্ষমতার হস্তান্তর হবে ধর্মীয় আলেমদের পরিষদের মাধ্যমে।

