পটুয়াখালী লতিফ স্কুল রোডে সন্তানের সামনেই মাকে পিষে দিল ঘাতক টমটম
মায়ের হাত ধরে রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটছিল ছোট্ট মেয়েটি। কিছুক্ষণ আগেও হয়তো মায়ের সঙ্গে গল্প করছিল, সামনে ছিল স্বাভাবিক একটি বিকেল। কিন্তু মুহূর্তেই সেই বিকেল পরিণত হলো জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ স্মৃতিতে। চোখের সামনে পেছন থেকে ছুটে আসা টমটমের ধাক্কায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মা, এরপর তার শরীরের ওপর দিয়েই চলে যায় ঘাতক টমটমের চাকা। মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে সড়কেই চিৎকার করে কাঁদতে থাকে ছোট্ট মেয়েটি।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে পটুয়াখালী শহরের লতিফ স্কুল রোড এলাকায় সিমেন্টবাহী একটি টমটমের ধাক্কায় হোসনেয়ারা বেগম (৫০) নামে ওই নারী নিহত হন। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ছোট মেয়ের হাত ধরে লতিফ স্কুল রোডের রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন হোসনেয়ারা বেগম। এ সময় পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে একটি সিমেন্টবাহী টমটম এসে তাকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় তিনি সড়কে পড়ে গেলে টমটমের চাকা তার শরীরের ওপর দিয়ে চলে যায়। মাকে রাস্তায় লুটিয়ে থাকতে দেখে সঙ্গে থাকা ছোট্ট মেয়েটি ডাক-চিৎকার ও কান্না শুরু করে। তার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। স্থানীয়রা জানান, পরে স্থানীয়রা টমটমের চালককে আটক করে পুলিশে খবর দেন।গুরুতর আহত অবস্থায় হোসনেয়ারা বেগমকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বামী মো. ফারুক শরীফ বলেন, “ভাড়া বাসা দেখার জন্য ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল আমার স্ত্রী। লতিফ স্কুল রোড এলাকায় সড়কের পাশে দিয়ে হাঁটার সময় পেছন থেকে একটি সিমেন্টবাহী টমটম এসে তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এরপর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান, তিনি আর বেঁচে নেই।”
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সৈকত হাসান বলেন, “হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই আহত নারীর মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনাজনিত আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।” পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে টমটম ও এর চালককে আটক করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

