পটুয়াখালীতে নিখোঁজ জেলে নাসিরের অসহায় পরিবারের পাশে গলাচিপা উপজেলা প্রশাসন

পটুয়াখালীতে নিখোঁজ জেলে নাসিরের অসহায় পরিবারের পাশে গলাচিপা উপজেলা প্রশাসন

পটুয়াখালীর গলাচিপায় জীবিকার একমাত্র সম্বল মাছ ধরার ট্রলারটি হারিয়ে চরম মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন ১ নম্বর ওয়ার্ডের ফায়ার সার্ভিস ঘাট এলাকার অসহায় জেলে নাসির। গত ১৬ জুলাই রাত থেকে তার ট্রলারটি নিখোঁজ হয়। কেবল নাসিরই নন, এই ধরার ট্রলারটির আয়ের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভর করে বেঁচে ছিল মোট চারটি পরিবার। একমাত্র মাধ্যমটি হারিয়ে দিশেহারা নাসির থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলেও দীর্ঘ অনুসন্ধানেও সন্ধান মেলেনি ট্রলারটির।

নিখোঁজ ট্রলারটিতে মূল্যবান ইলিশ ও পোয়া মাছ ধরার জাল, ইঞ্জিন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদিসহ আনুমানিক ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এতে ট্রলার হারানোর পাশাপাশি ব্যাংক ঋণ এবং আড়তদারদের দেনার পাহাড় জমেছে নাসিরের কাঁধে। অন্যদিকে স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অসুস্থতার চিকিৎসা করানোর সামর্থ্যটুকুও হারিয়ে বর্তমানে তিনি চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে নাসির পরিবারের এই অবর্ণনীয় দুর্দশা ও মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। খবরটি নজর কাড়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মু. ইজাজুল হকের। মানবিক দিক বিবেচনা করে তিনি তাৎক্ষণিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনায় উপজেলা মৎস্য দপ্তরকে বিষয়টিতে অবহিত করা হয় এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মু. ইজাজুল হক এবং গলাচিপা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুন্নবি যৌথভাবে জেলে নাসির ও তার স্ত্রীর হাতে জরুরি শুকনা খাদ্য সহায়তা তুলে দেন।
একই সাথে জেলে নাসির যেন দেনা শোধ করে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারেন এবং নতুন ট্রলারের ব্যবস্থা করে পরিবারগুলোর আয়ের পথ ফিরিয়ে আনতে পারেন, সে লক্ষ্যে উপজেলা মৎস্য দপ্তরকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপ অসহায় পরিবারটিকে সাময়িক স্বস্তি দিয়েছে। তবে সরকারি ও স্থায়ী কোনো সহযোগিতা পেলে নাসির দ্রুতই আবার নদীতে জাল ফেলে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে আশা করছেন এলাকবাসী।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...