জমি রেজিস্ট্রিতে সাধারণ মানুষের পকেট কাটা, বাড়তি খরচের ফাঁদে সরকারের নীরবতা
জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে বাধ্যতামূলকভাবে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। দীর্ঘদিন ধরে এই অঘোষিত লেনদেন চলে আসলেও এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। জমির দলিল রেজিস্ট্রেশনের নামে প্রতি ধাপেই গ্রাহকদের জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী দলিল লেখকের ফি ও সরকারি রাজস্ব বাবদ একমাত্র খরচ নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে তার বহুগুণ বেশি অর্থ গুনতে হয় ক্রেতাদের। দলিল লেখকদের সম্মানী বাবদ সরকার যে হার নির্ধারণ করেছে, তা অত্যন্ত পুরনো এবং বর্তমান বাজার দরের সাথে অসংগতি রয়েছে বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দলিল লেখকরা গ্রাহকের সম্মতিতে বাস্তবসম্মত ফি আদায় করেন বলে জানা যায়। তবে এই অর্থের কোনো আনুষ্ঠানিক রসিদ সাধারণত দেওয়া হয় না।
অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত আদায় করা এই অর্থের একটি বড় অংশ ভাগ বণ্টিত হয় সাব-রেজিস্ট্রার, জেলা রেজিস্ট্রার এবং অফিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীদের মধ্যে। এমনকি দলিল লেখক সমিতির তহবিলেও এর একটি অংশ জমা পড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিয়মানুযায়ী দলিল লেখকদের ফি-তালিকা অফিসের দেয়ালে টানানোর কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না, ফলে গ্রাহকরা হিমশিম খাচ্ছেন এবং সেবা পেতে বাধ্য হয়েই অবৈধ দাবি মেনে নিচ্ছেন।

