বিজ্ঞাপন

পাপ-পুণ্যের ভারসাম্যে আরাফবাসীদের অবস্থান ও ফরিয়াদ

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ৫:৫৬ এএম
পাপ-পুণ্যের ভারসাম্যে আরাফবাসীদের অবস্থান ও ফরিয়াদ

কেয়ামতের ময়দানে মানুষ সাধারণত জান্নাতি ও জাহান্নামি—এই দুই ভাগে বিভক্ত হবে। তবে এদের মাঝখানে আরেকটি বিশেষ শ্রেণীর মানুষের অবস্থান হবে, যারা সরাসরি কোনো জায়গায় প্রবেশ করবে না। জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী উঁচু প্রাচীরে অবস্থান করবে তারা। তাদের বলা হয় ‘আসহাবে আরাফ’। পবিত্র কোরআনে এই শ্রেণীর মানুষের বর্ণনার গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, তাদের নামেই একটি সুরার নামকরণ করা হয়েছে ‘সুরা আরাফ’।

তাফসিরে বর্ণিত আছে, এই আরাফবাসীরা সেসব ব্যক্তি, যাদের নেকি ও পাপের পরিমাণ সমান। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, আরাফ জান্নাত ও জাহান্নামের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত একটি উঁচু টাওয়ারের মতো। এখান থেকে তারা উভয় পক্ষের মানুষকে তাদের নিদর্শনের মাধ্যমে চিনতে পারবে। তাদের ভালো কাজগুলো তাদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবে, কিন্তু জান্নাতে প্রবেশ করার মতো পর্যাপ্ত নেকি তাদের নেই।

বিজ্ঞাপন

আরাফবাসীরা যখন জান্নাতের দিকে তাকাবে, তখন তাদের মন আনন্দে ভরে উঠবে এবং তারা জান্নাতিদের উদ্দেশ্যে ‘সালামুন আলাইকুম’ বলে সম্ভাষণ জানাবে। অপরদিকে, জাহান্নামের দিকে তাকালে তারা আগুনের লেলিহান শিখা এবং শাস্তিপ্রাপ্তদের দেখতে পাবে। তখন তারা আল্লাহর কাছে আকুল হয়ে প্রার্থনা করবে, ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে জালেম সম্প্রদায়ের সঙ্গী করো না।’ এছাড়াও জাহান্নামের অহংকারী ও প্রতাপশালী নেতাদের দেখে তারা ভর্ৎসনা করে বলবে, দুনিয়ার ক্ষমতা ও অহংকার আজ কোনো কাজে আসেনি। এই বিষয়টি মুমিনদের জন্য একটি বড় শিক্ষা বহন করে। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সম্পদ, ক্ষমতা বা দলবল পরকালে কোনো কাজে আসবে না। তাই প্রতিটি মানুষের উচিত জালেমদের সঙ্গ ত্যাগ করে নেক আমলে মনোযোগী হওয়া, যাতে চূড়ান্ত বিচারের দিন মুক্তি লাভ করা যায়।

বিজ্ঞাপন
শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...