বিজ্ঞাপন

জান্নাত-জাহান্নামের মাঝখানে আরাফবাসীদের দুর্দশা ও আকুতি

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ৫:৪৯ এএম
জান্নাত-জাহান্নামের মাঝখানে আরাফবাসীদের দুর্দশা ও আকুতি

কিয়ামতের ময়দানে মানুষের আমলনামা মাপার পর মূলত দুইটি দলে বিভক্ত হবে—জান্নাতি ও জাহান্নামি। তবে এই দুই শ্রেণির বাইরেও একটি বিশেষ গোষ্ঠী থাকবে, যারা জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানের একটি উঁচু স্থানে অবস্থান করবে। ইসলামী পরিভাষায় তাদেরকে ‘আসহাবে আরাফ’ বলা হয়। এই দলের তাৎপর্য এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, পবিত্র কোরআনে তাদের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে একটি পূর্ণাঙ্গ সুরার নামকরণ করা হয়েছে ‘সুরা আরাফ’।

জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী প্রাচীরবেষ্টিত ওই উচ্চভূমিকেই ‘আরাফ’ বলা হয়। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, আরাফ জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে অবস্থিত একটি উঁচু টাওয়ারের মতো। এখানে অবস্থানকারীরা উভয় পক্ষের মানুষকে তাদের নিদর্শন দেখে চিনতে পারবে। আরাফবাসীরা মূলত সেসব ব্যক্তি, যাদের নেক আমল ও পাপের পরিমাণ সমান। হজরত ইবনে জারির (রহ.) মতে, তাদের নেক আমল তাদের জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচিয়েছে, কিন্তু তারা এখনো জান্নাতে প্রবেশের সৌভাগ্য অর্জন করতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন

আরাফবাসীরা যখন জান্নাতের অধিবাসীদের দিকে তাকাবে, তখন তাদের মন আনন্দে পূর্ণ হয়ে যাবে এবং তারা জান্নাতিদের উদ্দেশ্যে ‘সালামুন আলাইকুম’ বলে শুভেচ্ছা জানাবে। অপরদিকে, জাহান্নামের দিকে তাকালে তারা আগুনের শিখা ও শাস্তিপ্রাপ্ত মানুষদের দেখবে। তখন তারা আল্লাহর কাছে আকুতি জানাবে—‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে জালেম সম্প্রদায়ের সঙ্গী করো না।’ এছাড়া তারা দুনিয়াতে অত্যাচারী নেতাদের লাঞ্ছিত অবস্থায় দেখে বলবে, দুনিয়ার অহংকার ও ক্ষমতা আজ আর কোনো কাজে আসেনি। পরকালের এই শিক্ষা থেকে মুমিনদের উচিত দুনিয়ার সাময়িক সম্পদ ও ক্ষমতার পেছনে না দৌড়ে সৎকর্মের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে মনোযোগী হওয়া।

বিজ্ঞাপন
শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...