কেয়ামতে জান্নাত-জাহান্নামের মাঝে ‘আরাফবাসীদের’ অবস্থান ও শিক্ষা
কিয়ামতের মাঠে মানুষকে সাধারণত জান্নাত ও জাহান্নাম—এই দুই ভাগে ভাগ করা হবে। কিন্তু এর বাইরেও একটি বিশেষ শ্রেণীর মানুষ থাকবে, যারা এই দুই স্থানের ঠিক মাঝখানে অবস্থান করবে। পবিত্র কোরআনে এই দলটিকে ‘আসহাবে আরাফ’ বা ‘আরাফবাসী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সুরা আরাফের নামকরণও তাদের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। মূলত যাদের ভালো ও মন্দ কাজের পরিমাণ সমান, তারাই জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পেলেও জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ পান না এবং সাময়িকভাবে এই স্থানে থাকেন।
জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানের উচুঁ স্থান বা প্রাচীরকেই ‘আরাফ’ বলা হয়। বিখ্যাত সাহাবি হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) একে দুই গন্তব্যের মাঝখানে অবস্থিত একটি উঁচু টাওয়ারের সাথে তুলনা করেছেন। এখানে অবস্থানকারীরা উভয় পক্ষের মানুষকে তাদের নিদর্শন দেখে শনাক্ত করতে পারবেন। জান্নাতবাসীদের দেখলে তারা আনন্দিত হয়ে তাদের ‘সালামুন আলাইকুম’ বলে স্বাগত জানাবেন। অপরদিকে, জাহান্নামের ভয়াবহ দৃশ্য দেখলে তারা ভীত হয়ে আল্লাহর কাছে আকুতি জানাবেন যেননা তাদেরকে জালেমদের সঙ্গে রাখা হয়। এমনকি তারা জাহান্নামে শাস্তি পাওয়া অহংকারী নেতাদের উদ্দেশ্যে বলবেন, দুনিয়ায় তাদের অহংকার ও প্রতাপ আজ আর কোনো কাজে আসেনি।
আসহাবে আরাফের এই ভাবনা থেকে আমাদের জন্য বড় শিক্ষা রয়েছে। পার্থিব জীবনের ক্ষমতা, অর্থ বা দলবল মৃত্যুর পর কাজে আসে না। তাই প্রতিটি মুমিনের উচিত জালেম ও অপরাধীদের সঙ্গ বর্জন করা এবং শুধুমাত্র নেক কাজে মনোযোগ দেওয়া। কারণ চূড়ান্ত বিচারে একমাত্র নেক আমলই মানুষকে সফলতা এনে দিতে পারে।

