বিজ্ঞাপন

পরকালে জাহান্নামের আগুনে যারা পুড়বে না, কিন্তু জান্নাতেও ঢুকবে না

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ৫:৩৩ এএম
পরকালে জাহান্নামের আগুনে যারা পুড়বে না, কিন্তু জান্নাতেও ঢুকবে না

কেয়ামতের ময়দানে আমলনামা মাপার পর মানুষ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত হবে—জান্নাতি ও জাহান্নামি। তবে এই দুই শ্রেণির বাইরে আরেকটি বিশেষ দল রয়েছে, যাদের অবস্থান হবে জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝামাঝি। এদের ‘আসহাবে আরাফ’ বা আরাফবাসী বলা হয়। পবিত্র কোরআনে এই দলের তাৎপর্যের কারণেই একটি সুরার নামকরণ করা হয়েছে ‘সুরা আরাফ’।

জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী প্রাচীরবেষ্টনীর উচ্চ স্থানটিই ‘আরাফ’। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) তাফসিরে তাবারিতে উল্লেখ করেছেন, আরাফ জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে অবস্থিত একটি উঁচু টাওয়ারের মতো। এখানকার বাসিন্দারা উভয় পক্ষের লোকজনকে তাদের নিদর্শন দেখে চিনতে পারবেন। মূলত যাদের নেকি ও পাপ সমান, তারা নেক আমলের কারণে জাহান্নাম থেকে বেঁচে যাবেন, কিন্তু জান্নাতে প্রবেশের সৌভাগ্য অর্জনেও ব্যর্থ হবেন। হজরত ইবনে জারির (রহ.) বলেছেন, এই দলটি জান্নাতি ও জাহান্নামি—উভয় শ্রেণির মানুষকে তাদের বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে শনাক্ত করতে পারবে।

বিজ্ঞাপন

আরাফবাসীদের চোখ যখন জান্নাতের দিকে যাবে, তারা খুশিতে আপ্লুত হয়ে জান্নাতিদের উদ্দেশ্যে ‘সালামুন আলাইকুম’ বলে শুভেচ্ছা জানাবেন। অন্যদিকে, জাহান্নামের আগুন ও শাস্তিপ্রাপ্তদের দেখলে তারা আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করবেন, ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে জালেম সম্প্রদায়ের সঙ্গী করো না।’ তারা দুনিয়াতে অহংকারী নেতাদের লাঞ্ছিত অবস্থায় দেখে বলবে, তাদের দল ও অহংকার আজ কোনো কাজে আসেনি। এ থেকে শিক্ষা পাওয়া যায়, দুনিয়ার স্বল্পকালীন ক্ষমতা বা সম্পদ আখেরাতে কাজে আসে না; তাই মুমিনদের উচিত সৎকর্মে মনোনিবেশ করা এবং জালেমদের সঙ্গ পরিহার করা।

বিজ্ঞাপন
শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...