বিজ্ঞাপন

কিয়ামতের ময়দানে জান্নাত-জাহান্নামের মাঝে ‘আরাফবাসী’দের পরিণতি

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২:৪০ এএম
কিয়ামতের ময়দানে জান্নাত-জাহান্নামের মাঝে ‘আরাফবাসী’দের পরিণতি

বিচারের দিন মানুষের আমলনামা যখন মাপা হবে, তখন মানুষ প্রধানত জান্নাত ও জাহান্নাম—এই দুই শ্রেণীতে বিভক্ত হবে। তবে এর বাইরেও একটি বিশেষ শ্রেণীর মানুষ থাকবে, যারা জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থান করবে। কোরআন ও হাদিসে এদের ‘আসহাবে আরাফ’ বা আরাফবাসী বলা হয়েছে। এই দলের তাৎপর্য এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, পবিত্র কোরআনের একটি পূর্ণাঙ্গ সুরার নামকরণ করা হয়েছে ‘সুরা আরাফ’।

জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী যে উঁচু প্রাচীর বা স্থান, তাকে ‘আরাফ’ বলা হয়। বিখ্যাত সাহাবি হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, আরাফ এমন একটি উঁচু টাওয়ারের মতো, যা জান্নাত ও জাহান্নামের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত। তাফসিরবিদ হযরত ইবনে জারির (রহ.) মতে, এখানে অবস্থানকারীরা উভয় পক্ষের মানুষকে তাদের নিদর্শন দেখেই চিনতে পারবে। মূলত যাদের নেকি ও পাপ সমান, তারাই এই আরাফে সাময়িকভাবে থাকবে। তাদের নেক আমল তাদের জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচিয়েছে, কিন্তু জান্নাতে প্রবেশের মতো পর্যাপ্ত সৎকর্মও তারা অর্জন করতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন

আরাফবাসীদের চোখ যখন জান্নাতের দিকে যায়, তারা আনন্দে ভরে ওঠে এবং জান্নাতিদের উদ্দেশ্যে ‘সালামুন আলাইকুম’ বলে সম্ভাষণ জানায়। কিন্তু যখনই তাদের দৃষ্টি জাহান্নামের দিকে যায় এবং তারা আগুনের শিখা ও শাস্তিপ্রাপ্ত মানুষদের দেখে, তখন তারা ভীত হয়ে আল্লাহর কাছে আকুতি জানায়। তারা বলে, ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে জালেম সম্প্রদায়ের সঙ্গী করো না।’ এছাড়া দুনিয়াতে অহংকারী নেতাদের জাহান্নামে লাঞ্ছিত দেখে তারা বলবে, তাদের দল ও অহংকার আজ কোনো কাজে আসেনি।

আসহাবে আরাফের এই বর্ণনা মানুষের জন্য মহৎ শিক্ষা বহন করে। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী ক্ষমতা, দলবল বা সম্পদ পরকালে কারো কাজে আসবে না। তাই চূড়ান্ত বিচারে সফল হতে হলে মুমিনের উচিত জালেমদের সঙ্গ ত্যাগ করা এবং শুধুমাত্র নেক আমল ও সৎকর্মের ওপর মনোনিবেশ করা।

বিজ্ঞাপন
শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...