বিজ্ঞাপন

জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে যারা থাকবেন, তারা কারা ও কী চাইবেন?

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১:৪১ এএম
জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে যারা থাকবেন, তারা কারা ও কী চাইবেন?

কেয়ামতের ময়দানে মানুষকে মূলত জান্নাত ও জাহান্নাম—এই দুই ভাগে ভাগ করা হবে। তবে এর বাইরে আরেকটি বিশেষ শ্রেণির কথাও জানিয়েছে পবিত্র কোরআন। যারা জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানের উচুঁ স্থানে অবস্থান করবেন, তাদের বলা হয় ‘আসহাবে আরাফ’। এই শ্রেণির গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, তাদের নামেই কোরআনের একটি সুরার নামকরণ করা হয়েছে ‘সুরা আরাফ’।

তাফসিরে তাবারিতে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে একটি উঁচু প্রাচীর বা টাওয়ারের মতো স্থান রয়েছে, যাকে ‘আরাফ’ বলা হয়। এখানে যারা থাকবেন তাদের সৎ ও অসৎ কাজের মাপ সমান। তাদের নেক আমল তাদের জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচিয়ে রেখেছে, কিন্তু জান্নাতে প্রবেশের মতো যোগ্যতাও এখনও অর্জন করতে পারেননি তারা। এই আরাফবাসীরা জান্নাতি ও জাহান্নামি—উভয় পক্ষকেই তাদের নিদর্শন দেখে চিনতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

জান্নাতিদের দিকে তাকালে তাদের মনে প্রশান্তি আসে এবং তারা ‘সালামুন আলাইকুম’ বলে তাদের অভিবাদন জানান। অন্যদিকে, জাহান্নামের দিকে তাকালে অগ্নিশিখা ও শাস্তিপ্রাপ্তদের দেখে তারা আল্লাহর কাছে আকুতি জানান। সূরা আরাফের ৪৭ নম্বর আয়াতের তথ্য অনুযায়ী, তারা বলেন, ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে জালেম সম্প্রদায়ের সঙ্গী করবেন না।’ এছাড়া আগুনে দগ্ধ অহংকারী নেতাদের দেখে তারা বলেন, দুনিয়ায় তোমাদের দল ও অহংকার আজ কোনো কাজে আসছে না।

আসহাবে আরাফের এই অবস্থান থেকে মুমিনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। পার্থিব ক্ষমতা, সম্পদ বা অহংকার পরকালে কোনো কাজে আসে না। তাই প্রতিটি বিশ্বাসীর উচিত দুনিয়াতে জালেমদের সঙ্গ ত্যাগ করা এবং কেবল নেক কাজে মনোনিবেশ করা, যাতে চূড়ান্ত বিচারে তারা সফলকাম হতে পারেন।

বিজ্ঞাপন
শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...