শর্ত পূরণের আগে মান্নত আদায়ের বিধান কী? যা বলে ইসলাম
মহান আল্লাহর কাছে কোনো মনের বাসনা পূরণের আশায় মানুষ মান্নত বা নজর করে থাকে। কিন্তু অনেক সময় আবেগের বশে অথবা শরিয়তি বিধান না জেনে শর্ত পূরণের আগেই মানতের টাকা বা বস্তু দান করে দেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠে, শর্ত পূরণের পূর্বে মান্নত আদায় করলে কি তা কবুল হবে? ইসলামি ফিকহের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শর্তযুক্ত মানত শুধুমাত্র সেই শর্তটি পূরণ হওয়ার পরই ওয়াজিব বা আবশ্যক হয়। এর আগে তা আদায় করার কোনো বিধান নেই।
ধরা যাক, কোনো ব্যক্তি মানত করলেন যে, চাকরি পেলে তিনি ১০ হাজার টাকা দান করবেন। এখন চাকরি নিশ্চিত হওয়ার আগেই যদি তিনি ওই টাকাটি দান করেন, তবে তা মানত হিসেবে গণ্য হবে না; বরং এটি সাধারণ নফল সদকা বলে বিবেচিত হবে। পরবর্তীতে যখন তার চাকরিটি হবে, তখন তাকে মানত আদায়ের জন্য নতুন করে আবার ১০ হাজার টাকা দান করতে হবে। বিখ্যাত ফিকহগ্রন্থ ‘বাদায়েউস সানায়ে’-তে উল্লেখ আছে, শর্তযুক্ত মানত শর্ত পাওয়ার পরই ওয়াজিব হবে এবং শর্ত পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তা আদায় করা ওয়াজিব নয় (কিতাবুন নুজুর: ৫/৯৩)।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে সুরা হজের ২৯ নম্বর আয়াতে বান্দাদের মানত পূরণের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে শরিয়তের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো কিছু লাভের আশায় শর্তসাপেক্ষে মানত করার চেয়ে নগদ দান-সদকা করা অনেক বেশি উত্তম। কেননা, সদকা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য নিঃশর্তভাবে দেওয়া হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) সহিহ বুখারিতে বলেছেন, মানত কোনো বিপদ ফেরাতে পারে না, এর মাধ্যমে কেবল কৃপণ ব্যক্তির সম্পদ বের করা হয়।
একইসাথে মনে রাখা জরুরি যে, শর্ত পূর্ণ হলেও গুনাহের কাজের মানত আদায় করা ইসলামে বৈধ নয়। যেমন—মাজারে সেজদা করা বা অবৈধ কোনো কাজের মানত করা। রাসুল (সা.) সহিহ বুখারি (৬৬৯৬) হাদিসে বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যের মানত করেছে সে যেন তা পূরণ করে। আর যে আল্লাহর নাফরমানির মানত করেছে, সে যেন তাঁর নাফরমানি না করে।

