বিজ্ঞাপন

জান্নাত-জাহান্নামের মাঝখানে আরাফবাসীদের অবস্থান ও ফরিয়াদ

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৭ এএম
জান্নাত-জাহান্নামের মাঝখানে আরাফবাসীদের অবস্থান ও ফরিয়াদ

কেয়ামতের ময়দানে আমলনামা মাপার পর মানুষ প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত হবে—জান্নাতি ও জাহান্নামি। তবে এদের বাইরে আরেকটি বিশেষ শ্রেণি রয়েছে, যারা জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থান করবে। পবিত্র কোরআনে তাদের গুরুত্বের কারণে একটি সুরারই নামকরণ করা হয়েছে ‘সুরা আরাফ’। এই দলটিকে ‘আসহাবে আরাফ’ বা আরাফবাসী বলা হয়। মূলত যাদের নেকি ও পাপ সমান, তারাই এই স্থানে সাময়িকভাবে অবস্থান করবেন। তাদের নেক আমল তাদের জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচিয়েছে, কিন্তু এখনও তারা জান্নাতে প্রবেশের উপযুক্ত হতে পারেননি।

জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী উচ্চ প্রাচীরবেষ্টনী বা টাওয়ারকে ‘আরাফ’ বলা হয়। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, এটি জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে অবস্থিত একটি উঁচু স্থান। এখান থেকে আরাফবাসীরা উভয় পক্ষের মানুষকে তাদের নিদর্শন দেখে চিনতে পারবে। তাদের দৃষ্টি যখন জান্নাতিদের দিকে যায়, তারা আনন্দিত হয়ে ‘সালামুন আলাইকুম’ বলে তাদের শান্তি কামনা করেন। অন্যদিকে, জাহান্নামের ভয়াবহ দৃশ্য দেখে তারা আল্লাহর কাছে আকুতি জানান, ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে জালেম সম্প্রদায়ের সঙ্গী করো না।’

বিজ্ঞাপন

আরাফবাসীরা জাহান্নামের আগুনে দণ্ডিত দুনিয়ার অহংকারী ও প্রতাপশালী নেতাদের দেখতে পাবেন। তারা তখন বলবেন, তাদের দল ও অহংকার আজ কোনো কাজে আসছে না। এই ঘটনা থেকে মুমিনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী ক্ষমতা, দলবল বা সম্পদ পরকালে কাজে আসে না। তাই চূড়ান্ত বিচারে সফল হতে হলে জালেমদের সঙ্গ ত্যাগ করে নেক আমল ও সৎকর্মে মনোনিবেশ করা জরুরি।

বিজ্ঞাপন
শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...