বিজ্ঞাপন

সামাজিক মাধ্যমে ইসলামি উপমা ব্যবহার: শরিয়তে কতটা জায়েজ?

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০২ জানুয়ারি ২০২৬ ৬:৪৮ পিএম
সামাজিক মাধ্যমে ইসলামি উপমা ব্যবহার: শরিয়তে কতটা জায়েজ?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত একটি গানে ইসলামের পবিত্র বিষয়বস্তু ও মহান ব্যক্তিত্বদের উপমা হিসেবে ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভাইরাল ওই গানটিতে জমজমের পানি, জান্নাতের ফুলদানি, হযরত হাসান-হোসাইন (রা.), হযরত মুসা (আ.)-এর লাঠি, আবাবিল পাখি এবং খোলাফায়ে রাশেদার মতো পবিত্র নিদর্শনগুলো সাধারণ মানুষের সাথে তুলনা করা হয়েছে। এ নিয়ে শরিয়তের পরিপন্থী কিনা তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও মুহাদ্দিস মুফতি জাওয়াদ তাহের।

মুফতি জাওয়াদ তাহের বলেন, ইসলামি সাহিত্য বা কবিতায় এসব পবিত্র বিষয়ের উপমা ব্যবহার নিছক সাহিত্যিক প্রয়োজনে কাব্যিক অলংকার হিসেবে বৈধ হতে পারে। তবে এর শর্ত হলো, তা অবশ্যই চরম ভক্তি ও সম্মানের সাথে করতে হবে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, জমজমের পানি সাধারণত হেদায়েত ও পবিত্রতার প্রতীক, আর হযরত হাসান-হোসাইন (রা.)-এর তুলনা কোনো ব্যক্তির প্রিয়ভাজন হওয়া বোঝাতে করা হয়। একইভাবে হযরত মুসা (আ.)-এর লাঠি বা আবাবিল পাখির উপমা বাতিলের বিরুদ্ধে সত্যের জয় বোঝাতে সাহিত্যে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

বিজ্ঞাপন

তবে এসব উপমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে শরিয়ত কিছু কঠোর সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছে। মুফতি জাওয়াদ জানান, কোনো তুলনাই যেন শিরকের পর্যায়ে না পৌঁছে অথবা নবী-রাসুলদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন না করে। সাধারণ মানুষকে নবী বা সাহাবিদের মর্যাদার আসনে বসানো যাবে না। গীতিকার ও শিল্পীদের শব্দ নির্বাচনে এমন সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যেন তা সাধারণ মানুষের মনে আকিদাগত কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে। সীমার মধ্যে থেকে সম্মানজনক ভাষায় উপমা ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য হলেও সীমালঙ্ঘন করলে তা হারাম বলে তিনি মতামত দেন।

বিজ্ঞাপন
শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...