গানে ইসলামি উপমা ব্যবহার: শরীয়তসম্মত করণীয় ও বর্জনীয়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি গানে জমজমের পানি ও জান্নাতি ফুলদানির মতো ইসলামি পবিত্র নিদর্শনের উপমা ব্যবহার নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও মুহাদ্দিস মুফতি জাওয়াদ তাহের। তিনি জানান, সাহিত্যে পবিত্র বিষয়গুলোর রূপক ব্যবহার নীতিগতভাবে বৈধ, তবে এর মূল শর্ত হলো তা অবশ্যই অত্যন্ত ভক্তি ও সম্মানের সাথে করতে হবে।
মুফতি জাওয়াদ ব্যাখ্যা করেন, ইসলামি সাহিত্যে জমজমের পানিকে জীবনদায়ক বা হেদায়েতের প্রতীক এবং হজরত হাসান-হোসাইন (রা.)-কে প্রিয়বস্তুর রূপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়া হজরত মুসা (আ.)-এর লাঠি বা আবাবিল পাখির মাধ্যমে সাধারণত বাতিলের বিরুদ্ধে সত্যের জয় বোঝানো হয়। তবে এসব উপমার ব্যবহারের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি। এগুলো হলো—কোনো অবস্থাতেই তুলনাটি শিরকের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে না, নবী-রাসুলদের মুজেজার অবমাননা করা যাবে না এবং সাধারণ কোনো মানুষকে নবী বা সাহাবির মর্যাদায় আসীন করা যাবে না।
গীতিকার ও শিল্পীদের উদ্দেশ্যে এই ইসলামি পণ্ডিত বলেন, শব্দ নির্বাচনে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। এমন কোনো শব্দ বা বাক্য ব্যবহার করা উচিত নয়, যা সাধারণ মানুষের মনে আকিদাগত বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। ইসলামি আদর্শের ওপর ভিত্তি করে সম্মানজনক ও শালীন উপমা কাব্যিকভাবে গ্রহণযোগ্য হলেও, শরিয়তের সীমারেখা অতিক্রম করলে তা পরিত্যাজ্য বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

