মেরাজের সফরে হজরত ইবরাহিমের দেওয়া জান্নাতের চাবি ও শুভেচ্ছা
ইসলামি ইতিহাসের অন্যতম অলৌকিক ঘটনা লাইলাতুল মেরাজের মাধ্যমে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ঊর্ধ্বজগতে অসংখ্য নবী-রাসুলের সান্নিধ্য লাভ করেন। এই মহিমান্বিত সফরে আসমানের সপ্তম স্তরে খলিলুল্লাহ হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ এবং তাঁর পক্ষ থেকে মুসলিম উম্মাহর জন্য প্রেরিত বিশেষ উপহারটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ফেরেশতা হজরত জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে বোরাকে আরোহণ করে নবীজি (সা.) সর্বপ্রথম হজরত আদম (আ.)-এর সাক্ষাৎ পান, এরপর ধারাবাহিকভাবে দ্বিতীয় আসমানে হজরত ঈসা ও ইয়াহইয়া (আ.), তৃতীয়ে ইউসুফ (আ.), চতুর্থে ইদরিস (আ.), পঞ্চমে হারুন (আ.) এবং ষষ্ঠে মুসা (আ.)-এর সাথে দেখা করেন। সর্বশেষে সপ্তম আসমানে ‘বায়তুল মামুর’-এ হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ হলে তিনি নবীজিকে (সা.) তাঁর উম্মতের জন্য সালাম পৌঁছে দিতে বলেন। এ সময় তিনি জান্নাতের বর্ণনা দিয়ে বলেন, জান্নাতের মাটি পবিত্র, পানি মিষ্টি এবং এটি এক বিশাল সমতল ভূমি। এই জান্নাতের গাছ লাগানোর জন্য তিনি একটি নির্দিষ্ট জিকির শিখিয়ে দেন, যা হলো: ‘সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদুলিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়া লা-হাওলা ওয়া লা-কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম’।
মেরাজের এই পবিত্র রাতে হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর দেওয়া তথ্য ও জিকিরটি মুসলিম উম্মাহর জন্য এক অমূল্য সম্পদ। অল্প কথায় বেশি পুণ্য অর্জনের সহজ সুযোগ হিসেবে এই দোয়া পাঠ করা প্রতিটি মুমিনের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর এবং এটিই মেরাজের অন্যতম প্রধান শিক্ষা।

