বিপদ মুক্তি ও মর্যাদার একমাত্র চাবিকাঠি হলো তাকওয়া
মহান আল্লাহর দরবারে মানুষের প্রকৃত মর্যাদা নির্ধারিত হয় ধন-সম্পদ বা বংশমর্যাদায় নয়, বরং ‘তাকওয়া’ বা খোদাভীতির ওপর। পবিত্র কোরআনের সুরা হুজরাতের ১৩ নম্বর আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি হলেন সেই মুমিন, যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়া অর্জন করতে পেরেছে। তাকওয়া কেবল সাধারণ ভয় নয়, এটি পাপ থেকে বেঁচে থাকার একটি সচেতন প্রচেষ্টা। আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) তাকওয়াকে কাঁটাযুক্ত পথে এমনভাবে চলার সাথে তুলনা করেছেন, যাতে করে কোনো কাঁটা পায়ে না বিঁধে।
কোরআন ও হাদিসে মানুষকে সর্বদা তাকওয়া অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুরা আলে ইমরান, নিসা এবং হাশরের বিভিন্ন আয়াতে বিশুদ্ধ মুসলিম হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তাকওয়ার ফলে বান্দা বিপদ থেকে মুক্তি পায় এবং অপ্রত্যাশিত সূত্রে রিজিক লাভ করে, যা সুরা তালাকের ২-৩ নম্বর আয়াতে উল্লেখ আছে। এছাড়াও আল্লাহ মুত্তাকিদের ভালোবাসেন এবং তাদের জন্য জান্নাতের ওয়াদা রয়েছে। তাই আখেরাতের প্রস্তুতির জন্য প্রতিটি মানুষের উচিত নিজের আমলের হিসাব নেওয়া এবং হারাম থেকে দূরে থাকা।
তাকওয়া অর্জনের জন্য হাদিসে একটি বিশেষ দোয়া করার কথা বলা হয়েছে, যাতে হেদায়েত, তাকওয়া, পবিত্রতা ও স্বচ্ছলতা কামনা করা হয়। নিয়মিত আত্মসমালোচনা এবং সন্দেহজনক কাজ থেকে বিরত থাকা তাকওয়া বাড়ার অন্যতম মাধ্যম। অন্তরে আল্লাহর ভয় থাকলে মানুষ অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে সংযত রাখতে পারে এবং সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। ঈমানের প্রাণ হলো তাকওয়া, যা ছাড়া ঈমান কখনো পূর্ণতা পায় না।

