বিজ্ঞাপন

হিংসামুক্ত অন্তরই জান্নাতের চাবিকাঠি, শিক্ষা সাদের

প্রাইম বার্তা অনলাইন
৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩:৫৯ এএম
হিংসামুক্ত অন্তরই জান্নাতের চাবিকাঠি, শিক্ষা সাদের

জান্নাত লাভের জন্য কেবল বাহ্যিক ইবাদতের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়, বরং এর মূল চাবিকাঠি হলো অন্তরের পবিত্রতা এবং অন্যের প্রতি বিদ্বেষমুক্ত মানসিকতা। দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত বরকতময় দশ সাহাবির অন্যতম হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর জীবন এই কথার প্রমাণ বহন করে। একবার মসজিদে নববিতে রাসুল (স.) সাহাবিদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, এমন একজন ব্যক্তি তাদের সামনে আসছেন যিনি জান্নাতের অধিকারী। এরপরই দাড়ি বেয়ে অজুর পানি টপকে পড়া এবং হাতে জুতা নিয়ে হজরত সাদ (রা.) মসজিদে প্রবেশ করেন। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, পরপর তিন দিন একই ঘটনা ঘটে এবং প্রতিবারই সেই একই সাহাবির আগমন ঘটে।

হজরত সাদ (রা.)-এর এই বিশেষ মর্যাদার কারণ উদঘাটন করতে এগিয়ে আসেন সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)। তিনি তিন দিন তিন রাত সাদ (রা.)-এর বাড়িতে অবস্থান করে তাঁর ইবাদত-বন্দেগি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি দেখেন যে, সাদ (রা.) ফরজ নামাজের বাইরে অতিরিক্ত নফল ইবাদত বা রাতজাগরণ করতেন না। তবে ঘুমানোর সময় বিছানায় পাশ বদলালেও তিনি আল্লাহর জিকির করতেন এবং তাঁর মুখ দিয়ে কখনো কোনো মন্দ কথা বের হতো না। শেষ পর্যন্ত জবাবে হজরত সাদ (রা.) জানান, তাঁর মূল আমল হলো অন্তরের শুদ্ধতা। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো মুসলিমের প্রতি অন্তরে বিদ্বেষ বা গোপন শত্রুতা রাখি না এবং আল্লাহ অন্য কাউকে যে নেয়ামত দিয়েছেন তা দেখে কখনো হিংসা করি না।’ এ কথা শুনে আব্দুল্লাহ (রা.) স্বীকার করেন যে, এই গুণটিই তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ এনে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ইসলামের ইতিহাসে হজরত সাদ (রা.) একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি ‘আশারায়ে মুবাশশারা’ বা জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশ সাহাবির অন্যতম এবং নবীজি (স.)-এর মামাতো ভাই। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করে তিনি বদর, ওহুদসহ সব প্রধান যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি কাদিসিয়ার যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেন। ৫৫ হিজরিতে আকিক নামক স্থানে ৮২ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর এই জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিটি মুমিনের উচিত হিংসা-বিদ্বেষ পরিত্যাগ করে অন্তরকে পবিত্র রাখা।

বিজ্ঞাপন
শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...