অজুর পর প্রস্রাবের সন্দেহ দূর করুন: জেনে নিন করণীয়
নামাজের পবিত্রতা নিয়ে অনেক মুসল্লির মনে বারবার সন্দেহ জাগে, বিশেষ করে অজুর পর প্রস্রাবের ফোঁটা পড়েছে কিনা তা নিয়ে। এই ধরনের মানসিক অস্থিরতা বা ওয়াসওয়াসা ইবাদতে মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটায়। ইসলামি শরিয়তের মূলনীতি অনুযায়ী, ‘নিশ্চয়তা কখনো সন্দেহ দ্বারা বাতিল হয় না’। ফলে, যতক্ষণ পর্যন্ত চোখে দেখে বা স্পষ্ট আলামত পাওয়া না যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত কেবল সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে অজু ভঙ্গ হয়নি বা পোশাক অপবিত্র হয়নি বলে ধরে নিতে হবে।
পবিত্র হাদিসে এ সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, কেউ যেন শব্দ শুনতে না পায় বা দুর্গন্ধ না পায় ততক্ষণ পর্যন্ত নামাজ ছেড়ে না দেয় (সহিহ বুখারি: ১৩৭)। এছাড়া হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি প্রজ্ঞাপূর্ণ পদ্ধতি হলো অজুর পর লজ্জাস্থানে সামান্য পানি ছিটিয়ে দেওয়া। এতে পরবর্তীতে আর্দ্রতা অনুভব হলে মনে করা যাবে যে এটি ওই ছিটানো পানির কারণেই হয়েছে (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক: ৫৮৩)।
যাদের দীর্ঘসময় ধরে এই সমস্যা অব্যাহত থাকে এবং এক ওয়াক্তের মধ্যে অজু করে ফরজ নামাজ আদায় করার মতো পরিষ্কার সময় পান না, শরিয়তে তাদের ‘মাজুর’ বলা হয়। মাজুর ব্যক্তির জন্য বিধান সহজ—তিনি প্রতি ওয়াক্তের শুরুতে একবার অজু করলেই ওই ওয়াক্তের মধ্যে যতো খুশি ফরজ, সুন্নত বা নফল নামাজ আদায় করতে পারবেন। ওয়াক্ত শেষে নতুন ওয়াক্তের জন্য পুনরায় অজু করতে হবে (হাশিয়াতুত তাহতাবি আলা মারাকিল ফালাহ)। সব মিলিয়ে সন্দেহ দূর করে নিশ্চিন্তে ইবাদত করাই মুমিনের কর্তব্য।

